Airborne early warning and control system

আকাশে পাকিস্তান-চিনের মোকাবিলায় আসছে ডিআরডিও-র ‘নেত্র’, কী কাজ করে ভারতে তৈরি এই অ্যাওয়াক্‌স?

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানের কাজে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই ‘অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স’ পেয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাওয়াক্‌স ‘নেত্র’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৮:৩১
Share:

বিমানবাহী ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’। ছবি: সংগৃহীত।

সামরিক পরিভাষায় ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্‌স)। আদতে শত্রু বিমানের অনুপ্রবেশের উপর নজরদারি বা হামলা চালানোর সময় ফাইটার জেট স্কোয়াড্রনকে পরিচালনাকারী রেডার-ব্যবস্থাযুক্ত বিমান। ইজ়রায়েলি ফ্যালকনের পাশাপাশি এ বার ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসতে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিআরডিও (প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা)-র তৈরি ‘নেত্র’ অ্যাওয়াক্‌স।

Advertisement

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কাজে মোতায়েনের জন্য ইতিমধ্যেই ‘অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স’ পেয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাওয়াক্‌স ‘নেত্র’। এমব্রায়ার ইআরজে-১৪৫ বিমানে পরিবহণযোগ্য ওই অত্যাধুনিক রেডার হাতে আসায় পাকিস্তান এবং চিন সীমান্তে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও নিখুঁত হল বলেই মনে করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও সামরিক অভিযানে একে ব্যবহার করা হয়নি।

‘নেত্র’ অ্যাওয়াক্‌সে ব্যবহৃত ‘এসা’ সেন্সর ও রেডার প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। ‘ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স’ যুক্ত এই দেশীয় অ্যাওয়াক্‌স যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ থেকে সরাসরি স্থলসেনার কাছে লাইভ ডেটা পাঠাতে সক্ষম। তবে ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ইজ়রায়েলি ‘ফ্যালকন’ ৩৬০ ডিগ্রি ক্ষেত্র জুড়ে নজরদারিতে সক্ষম। কিন্তু ভারতে তৈরি অ্যাওয়াকস ‘নেত্র’র ‘নজরদারির পরিধি’ ২৪০ ডিগ্রি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে প্রায় ৮,১০৭ কোটি টাকা দিয়ে ইজরায়েল থেকে তিনটি ‘ফ্যালকন’ কিনেছিল ভারত। রাশিয়ার তৈরি সামরিক পরিবহণ বিমানে আইএল-৭৬-এ বসানো এই ইজরায়েলি নজরদারি ব্যবস্থার কাজ হল, ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেটগুলিকে নিখুঁত ভাবে ‘লক্ষ্য’ চিহ্নিত করতে সাহায্য করা। পাশাপাশি, এগুলি শত্রুপক্ষের বিমানবাহিনীর তৎপরতার উপর নজরদারির কাজও করতে পারে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে হামলাকারী ১২টি মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেটকে পরিচালনা করেছিল এই ইজরায়েলি অ্যাওয়াক্‌স। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ফ্যালকনের। তবে প্রকাশিত কয়েকটি রিপোর্টে দাবি, অঘোষিত ভাবে সিঁদুর অভিযানের সময় ‘নেত্র’র কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে সেনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement