—প্রতীকী চিত্র।
২০০৮ সালে নন্দরাম মার্কেট, ২০১০ সালে স্টিফেন কোর্ট, ২০১৮-এ বাগরি মার্কেট বা ২০২৫-এ মেছুয়া এলাকার হোটেল— শহরে একের পর এক বড় অগ্নিকাণ্ড থেকেও শিক্ষা নেয়নি দমকল দফতর। অতীতে সমস্ত বড় অগ্নিকাণ্ডের পরেই সরকারি তরফে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন এবং ফায়ার অডিটে জোরদেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই আগুন নেভার পরে দিনকয়েক যেতেই কমিটির কার্যকারিতা বা ফায়ার অডিটের বিষয়টি লঘু হয়ে গিয়েছে। এ বারের অঘটনের পরে ফায়ার অডিটে নতুন নিয়ম আনতে মঙ্গলবার বিকেলে নিউ টাউনে দমকলের প্রশাসনিক ভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন দফতরের সচিব খলিল আহমেদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দমকলের একাধিক পদস্থ কর্তাও। সেই বৈঠকেই তিনি দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, সংস্থাগুলির ফায়ার অডিটের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
দমকল সূত্রের খবর, কলকাতা তথা জেলার বেশির ভাগ সংস্থাতেই ফায়ার অডিট করা সম্ভব হয় না। রবিবার গভীর রাতে পুড়ে যাওয়া আনন্দপুরের নাজিরাবাদের গুদামে এবং আশপাশের একাধিক কারখানাতেও ফায়ার অডিট হয়নি বলেই খবর। কলকাতা এবং রাজ্যের বেশির ভাগ সংস্থায় ‘ফায়ার অডিট’ না হওয়ায় মঙ্গলবারের বৈঠকেক্ষোভ প্রকাশ করেন সচিব। তিনি দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, এ ভাবে কাজ করলে চলবে না। নিজেদের পরিচয় গোপন করে সংস্থায় অভিযানে যেতে হবে। ফায়ার অডিটের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মঙ্গলবারের প্রশাসনিক ভবনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, কলকাতা-সহ বড় শহরগুলিতেজনবসতির নিরিখে তিনটি জ়োনে (লাল, হলুদ ও সবুজ) ভাগ করে নিয়ম মেনে ফায়ার অডিটের কাজ শুরু করতে হবে। রাজ্যের বড় শহরে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে দমকল একযোগে এই কাজ করবে।
দমকলের এক শীর্ষ কর্তা বুধবার বলেন, ‘‘কলকাতা তথা সারা রাজ্যে ফায়ার অডিট করানোর মতো লোকবল এই মুহূর্তেদমকলের প্রায় নেই বললেই চলে। রাজ্যে রয়েছে ১৬৭টি দমকল কেন্দ্র। সব ক’টি কেন্দ্রে ফায়ার অডিট করার ইনস্পেক্টরের সংখ্যা মাত্র দুশো। এত কমসংখ্যক লোক নিয়ে অডিট করা কঠিন। তাঁরা আগুন নেভাবেন, না অডিট করবেন?’’
দমকল দফতর সূত্রের খবর, অনলাইনে ‘এনওসি’ (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বা লাইসেন্স নিতে গিয়ে আধিকারিকদের ‘সাজানো’ পরিকাঠামো দেখান আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। দমকলের এক আধিকারিকের অভিযোগ, এনওসি বা ফিটনেস সার্টিফিকেটপ্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পরিদর্শনে যান আধিকারিকেরা। কিন্তু তখন যাবতীয় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা সাজিয়ে রাখা হয়। দমকলের আধিকারিকদের পরিদর্শনের পরে তাঁরা সংস্থা থেকে চলে গেলে সেই সব পরিকাঠামো খুলে ফেলা হয়।
গত বছরের ২৫ এপ্রিল উত্তর কলকাতার মেছুয়ার একটি হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে দমকলের ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘হোটেলটি শুরুর দিকে দমকলের ‘এনওসি’ নেওয়ার সময়ে আমাদের দেখিয়েছিল, হোটেল থেকে বেরোনোর আপৎকালীন সিঁড়ি পরিষ্কার। কিন্তু আগুন লাগার পরে সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছিল, ওই সিঁড়িতে মালপত্র গুদামের মতো স্তূপ করে রাখায় বিপদের সময়ে আবাসিকেরা বেরোতে পারেননি।’’
মঙ্গলবারের প্রশাসনিক ভবনের বৈঠকে বলা হয়েছে, রাজ্যেরপ্রত্যেক দমকল কেন্দ্রে কত ফায়ার অডিট হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। ফায়ার অডিট নিয়ে শীঘ্রই দমকলের আধিকারিকদের সঙ্গে রিভিউ বৈঠকে বসবেন দফতরের সচিব।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে