Kolkata Airport

যাত্রী নিয়ে টানাটানি, বিমানবন্দরে খুলে ফেলা হল সরকারি বাসের সাইনবোর্ড

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩
Share:

বিভ্রান্তি: বিমানবন্দরের বাসস্ট্যান্ডে নেই কোনও বোর্ড। ছবি: সুদীপ ঘোষ।

যাত্রী তুমি কার! সরকারি বাতানুকূল বাস নাকি কলকাতা মেট্রোর, এই টানাপড়েনে নেতাজি সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতানুকূল ভলভো বাসের স্ট্যান্ড ছয় মাস ধরে সাইনবোর্ড বিহীন। ফলে যাত্রীদের স্ট্যান্ড খুঁজতে হয়রান হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার দেওয়া সাইনবোর্ড হারিয়ে সরকারি বাসের স্ট্যান্ডের আধিকারিকেরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের বাসের দিকে টানতে টার্মিনালের সামনে গিয়েও কর্মীদের ডাকাডাকি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনভ্যস্ত যাত্রীরা বাস ও মেট্রোর মধ্যে কোন পথে, কী ভাবে গেলে সুবিধা হবে, বুঝতে সমস্যায় পড়ছেন।

সমস্যার শুরু গত অগস্টে নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর পথে মেট্রো চলাচল শুরুর পর থেকে। অন্য শহর থেকে যাত্রীদের কলকাতায় পৌঁছনোর পরে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর পথের কাছেই রয়েছে বাতানুকূল সরকারি বাসের স্ট্যান্ড এবং কলকাতা মেট্রোর জয়হিন্দ স্টেশনের গেট। স্ট্যান্ডে যাওয়ার এবং স্টেশনের সাবওয়েতে প্রবেশপথ পাশাপাশি। বাস স্ট্যান্ড দেড় দশকের বেশি পুরনো। তার পথ নির্দেশ করে একটি বড় সাইনবোর্ড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে আগেই বসানো হয়েছিল। গত অগস্টে প্রধানমন্ত্রী শহরের মেট্রো প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করতে এসেছিলেন। মূল অনুষ্ঠান যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে হলেও ওই অনুষ্ঠানের একাংশ জয়হিন্দ মেট্রো স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তখন মেট্রোর স্টেশন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থা ওই সাইনবোর্ড খুলে নেয় বলে অভিযোগ।

রাজ্য পরিবহণ নিগমের আধিকারিকদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান মিটে গেলে বোর্ড ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও তা আর ফেরানো হয়নি। নির্মাণ সংস্থাকে বিষয়টি একাধিক বার জানিয়েও ফল মেলেনি বলে অভিযোগ নিগমের আধিকারিকদের।

অথচ বিমানবন্দরে বাতানুকূল বাসের ওই সরকারি স্ট্যান্ড থেকে কলকাতা ছ’টি রুটে দৈনিক বিভিন্ন বাসের ৬০টি ট্রিপ চলে। ওই সব বাসের মধ্যে রয়েছে ভি-১, ভি এস-১, ভি এস-২, এসি-৪৩, এসি-৩৯ এবং এসি-৩৭ এ রুটের বাস। এর মধ্যে ভি এস-১ ধর্মতলার এল-২০ বাস স্ট্যান্ড থেকে এবং ভি এস-২ হাওড়া থেকে বিমানবন্দর যায়। ভি-১ রুটের বাস টালিগঞ্জ থেকে বিমানবন্দরযায়। দক্ষিণে এসি-৩৭(এ) গড়িয়া থেকে এবং এসি-৪৩ রুটের বাস গল্ফ গ্রিন থেকে টালিগঞ্জ যায়। এসি-৩৯ রুটের বাস হাওড়া থেকেবিমানবন্দর যায়।

অতীতে বাসের সংখ্যা ওই সব রুটে আরও বেশি ছিল। মেট্রো চালু হওয়ার পর বাসের যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেলেও সরাসরি হাওড়া, ধর্মতলা, টালিগঞ্জ, গড়িয়া যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের একাংশ এখনও বাসের উপরেই নির্ভর করেন। দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ভারী মালপত্র থাকলে অনেকেই বাসে সফর করা পছন্দ করেন। কিন্তু সাইনবোর্ড না থাকায় যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে।

এ নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা দাবি করেছেন, সাইনবোর্ড বাস এবং মেট্রোর যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণ হচ্ছিল। কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নান বলেন, ‘‘বিভ্রান্তি কাটাতে পথ আলাদা করা হয়েছে সম্প্রতি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই সাইনবোর্ড দ্রুত উপযুক্ত স্থানেবসানো হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন