উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোকে আরও একটু সাজিয়ে-গুছিয়ে নেওয়া যেতে পারে, আরও একটু বিধিবদ্ধ হতে পারে যাপন। সেই চেষ্টাতেই এ দেশের ছ’সাতটি শহরে ‘আর্বান অবজারভেটরি’ গড়ে তোলার প্রকল্প নিয়েছে ‘ইন্দো-ইংল্যান্ড জয়েন্ট নেটওয়ার্ক অন সাসটেনেবল সিটিজ অ্যান্ড আর্বানাইজেশন ইন ইন্ডিয়া।’ কলকাতা সেই শহরগুলির মধ্যে একটি। এই প্রকল্প প্রণয়নের জন্য খড়্গপুর আইআইটি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার এ শহরের এক হোটেলে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মশালায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিলেন রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ও সরকারি কর্তারা। মত-পাল্টা মতের মধ্যে উঠে এল প্রকল্পের নানা ইতিবাচক দিক।
আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা, প্রফেসর পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী জানান, নগরায়ণের জন্য বিদেশকে অন্ধ ভাবে অনুকরণ করলেই হবে না। পরিস্থিতি ও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী এক-এক জায়গায় এক-এক রকম উন্নয়নের প্রয়োজন। ‘‘এই প্রয়োজন বোঝার জন্য প্রাথমিক ভাবে দরকার বিপুল পরিমাণ তথ্য বা ডেটা। সেই ডেটা সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটাই শুরু হবে এই অবজারভেটরিতে।’’— বললেন পার্থপ্রতিমবাবু। তিনি জানিয়েছেন, নগরায়ণ মন্ত্রক এবং কলকাতা পুলিশ এই প্রকল্প নিয়ে সহমত।
কার্যত এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজই হবে শহরের প্রতিটি খুঁটিনাটিকে লিপিবদ্ধ করা। স্কুলপড়ুয়াদের সংখ্যা থেকে শুরু করে শহরের দূষণ, নিকাশি ব্যবস্থা, প্রশাসনিক নজরদারি, জল সরবরাহ— এই সব কিছুর বিস্তারিত হিসেব পাওয়ার পরেই নগরায়ণের কাজ যথাযথ ভাবে শুরু করা সম্ভব হবে। কয়েকশো টেরাবাইট ডেটার মধ্যে এই তথ্য ও হিসেব বন্দি করা সম্ভব হবে হয়তো। তবে এই প্রকল্পের সঙ্গে কত মানুষ যুক্ত থাকবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষেই অবজারভেটরির কাজ শুরু হয়ে যাবে শহরে, জানালেন পার্থপ্রতিমবাবু।