coronavirus

হাওড়ায় নিম্নমুখী সংক্রমণ, কমছে আইসিইউ শয্যার চাপ

স্বাস্থ্য দফতরের অতি সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে গোটা জেলায় দৈনিক ১২০০ থেকে ১৩০০ জ‌ন সংক্রমিত হচ্ছিলেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২১ ০৭:০৪
Share:

প্রতীকী চিত্র।

হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শহরে এই মুহূর্তে সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নমুখী। খানিকটা হলেও রাশ টানা গিয়েছে মৃত্যুর সংখ্যায়। যে কারণে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা থাকায় কমেছে হাহাকার। গত এক সপ্তাহে পাওয়া তথ্যের এই বিশ্লেষণ অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের। গণপরিবহণ-সহ সর্বত্র কড়া সরকারি বিধিনিষেধ এবং বেশি সংখ্যায় পরীক্ষা করে পজ়িটিভ রোগী চিহ্নিত করাকেই কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণ হিসেবে তাঁরা দাবি করছেন।

Advertisement

গত এপ্রিল থেকে রাজ্যের সঙ্গে হাওড়াতেও সংক্রমণের লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। গোটা জেলায় দৈনিক সংক্রমণ হয় প্রায় ১৮০০। বেড়ে যায় মৃত্যুও। পরিস্থিতি এমন হয় যে কলকাতা ও হাওড়া মিলিয়ে শিবপুর কোভিড শ্মশানে প্রতিদিন ২০-২৫টি করে দেহ সৎকার করতে হচ্ছিল। একটানা সৎকার ক‍রার চাপে চুল্লি গরম হয়ে দু-দু’বার আগুনও লেগে যায়। নষ্ট হয়ে যায় বৈদ্যুতিক চুল্লি।

স্বাস্থ্য দফতরের অতি সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে গোটা জেলায় দৈনিক ১২০০ থেকে ১৩০০ জ‌ন সংক্রমিত হচ্ছিলেন। ২৭ তারিখ সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ১০৪৯ জন, ২৮ তারিখ শুক্রবারে ওই সংখ্যা কমে হয়েছে ৭৫৩ জন। ওই তথ্য থেকে আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে গোটা জেলায় সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ৮০৫৪ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর হার ৮৮.৬০ শতাংশ। মৃত্যুর হার ওই জেলায় ৩ শতাংশ থেকে হয়েছে ১.৬০ শতাংশ।

Advertisement

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার ইতিবাচক দিকটি উঠে এসেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া কোভিড পরীক্ষার পরিসংখ্যানেও। হাওড়া পুর এলাকায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় সংক্রমণ শূন্য ছিল গত ২৫ তারিখে। তবে গ্রামীণ এলাকায় ওই দিন সংক্রমণ বেড়েছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্য দিকে, পুর এলাকায় রাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় পজ়িটিভের শতকরা হার ১৯.৪ থেকে হয়েছে ৩.২৩ শতাংশ।

সূত্রের খবর, সংক্রমণ কমতে শুরু করায় হাওড়ার অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি কোভিড হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কমে গিয়েছে। হাওড়া সদর ও উলুবেড়িয়া মহকুমার ১৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ১৪৮৩টি শয্যায় এখন কোভিড রোগী রয়েছেন ৬৮৫ জন। অর্থাৎ, ফাঁকা রয়েছে ৭৯৮টি শয্যা। মোট ১৪২টা সিসিইউ শয্যার মধ্যে ফাঁকা আছে ৬৫টি। ২৮ তারিখ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সিসিইউ শয্যা না থাকায় হাহাকার উঠেছিল গোটা জেলা জুড়ে। সেখানে সিসিইউ শয্যা ৬৫টি ফাঁকা থাকা যে যথেষ্ট স্বস্তির কারণ, মানছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই মণ্ডল বলেন, ‘‘হাওড়ায় সংক্রমণের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এর মূল কারণ রাজ্য জুড়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং দৈনিক কোভিড পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি। পরীক্ষা বেশি হওয়ার ফলে সংক্রমিতদের চিহ্নিত করে ফেলা যাচ্ছে। এই ফলাফল দেখেই আমরা কোভিড পরীক্ষা ও প্রতিষেধক প্রদানকে মূল লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement