flight disruption

ঘরে ফেরা কঠিন! বাতিলের হিড়িকে বাদ পুজোয় বিদেশ ভ্রমণও

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন আরও একটি ভ্রমণ সংস্থার প্রধান। তিনি এই মুহূর্তে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দুবাইয়ে আটকে। এ দিকে, শুক্রবারই ১৬ জনের একটি দল নিয়ে আন্দামান যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪১
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

আগামী এপ্রিলেই ইউরোপ বেড়াতে যাওয়ার কথা ১৬ জনের একটি দলের। কিন্তু ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েল যুদ্ধের আবহে এই মুহূর্তে তাঁদের কেউই ভ্রমণে আর আগ্রহী নন। এমন পরিস্থিতি চললে বেড়াতে গিয়ে ঘরে ফেরা জটিল হতে পারে, এই আশঙ্কায় ভ্রমণ সংস্থায় ফোন করে পর পর বুকিং বাতিল করছেন তাঁরা।

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন আরও একটি ভ্রমণ সংস্থার প্রধান। তিনি এই মুহূর্তে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দুবাইয়ে আটকে। এ দিকে, শুক্রবারই ১৬ জনের একটি দল নিয়ে আন্দামান যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এর চেয়েও তাঁর কাছে বড় চিন্তার, আগামী ১৪ এপ্রিল ১৫ জনের দল নিয়ে তাঁরই আবার তাইল্যান্ড যাওয়ার কথা! দুবাইয়ে আটকে থাকা, ওই সংস্থার প্রধান সপ্তর্ষি চক্রবর্তী বলছেন, ‘‘দেশের ভিতরে বলে আন্দামানের তবু ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কিন্তু তাইল্যান্ডের কী হবে? এ ভাবে চললে তো অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে!’’

কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে কলকাতা থেকে বিদেশ ভ্রমণ কার্যত বন্ধ। বেশ কয়েক মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, এমন অনেকেই এই মুহূর্তে বিদেশ ভ্রমণে যেতে আগ্রহী নন বলে দাবি ভ্রমণ সংস্থাগুলির। ফলে, তাঁদের কাছে পর পর বুকিং বাতিলের ফোন আসছে। এমনকি, যুদ্ধ-পরিস্থিতি কত দিন চলতে পারে, তা বুঝে উঠতে না পেরে পুজোর সময়ে বিদেশ ভ্রমণও বাতিল করার পথে হাঁটছেন অনেকে। ফলে, ভ্রমণ সংস্থার কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অনেকেই করোনা-কালের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল পাচ্ছেন। একটি ভ্রমণ সংস্থার প্রধান সুমনা মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘নতুন বুকিং তো হচ্ছেই না। বিদেশ ভ্রমণ সব বাতিল হচ্ছে। ভয়ে অনেকেই পুজোর বুকিং-ও বাতিল করছেন। কী হবে, জানি না।’’

দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন বড় বিমানবন্দর গোটা বিশ্বের বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে ট্রানজ়িট হাব হিসাবে কাজ করে। বিশেষত, ইউরোপ, আমেরিকায় যেতে এই বিমানবন্দরগুলি হয়েই যাতায়াত করে ভারতীয় বিভিন্ন বিমান সংস্থার উড়ানের একটি বড় অংশ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত সরাসরি বিমান যাতায়াত করে পশ্চিম এশিয়ার এই ট্রানজ়িট হাবগুলিতে। তবে, ইরান-ইজ়রায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বর্তমানে এই পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। বহু বিমান পরিবহণ সংস্থাই অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে। একটি ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধার সঞ্জীব খন্না বললেন, ‘‘দুবাই বা পশ্চিম এশিয়ার বিমানবন্দরগুলির সব চেয়ে বড় সুবিধা, সেখানে বিভিন্ন ধরনের বিমান পরিষেবা পাওয়া যায়। দামি টিকিটও যেমন আছে, তেমনই মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেও পরিষেবা আছে। তার সঙ্গে বিমানের সংখ্যাও ওই সমস্ত দিকে অনেক বেশি। খরচের দিক থেকে অনেকটা সস্তা হওয়ায় ভারতের নানা প্রান্ত থেকে বছরে শুধু দুবাই ভ্রমণেই যান কয়েক হাজার মানুষ। সমস্তটাই ঘেঁটে গিয়েছে।’’ আর এক ভ্রমণ সংস্থার কর্তা অমিত চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘যুদ্ধ আরও চললে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র পড়বে। তখন এমনিই বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার ব্যাপার হবে।’’

‘ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল’-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রশান্ত মাঝির দাবি, ‘‘এই অবস্থাতেও ভারত সরকারের তরফে কোনও দিক্-নির্দেশ মিলছে না। যদি সরকার নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা না করে, ভ্রমণ সংস্থা কত দিন টানবে?’’ ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টুরিজ়ম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল’-এর চেয়ারম্যান সমর ঘোষের মতে, ‘‘ভ্রমণের সময়ে যে চুক্তি হয়, তাতে লেখাই থাকে, বিদেশে কোনও রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ভ্রমণ সংস্থা দায়ী থাকবে না। তার পরেও মানবিকতার খাতিরে এখনও সাহায্য করে চলেছে ভ্রমণ সংস্থাগুলি। কিন্তু কত দিন?’’

এক দিকে ঘুরপথে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বাড়তি খরচ, সেই সঙ্গেই নতুন বুকিং‌ না আসার দরুণ মন্দা পরিস্থিতি। কত দিন এই অবস্থা চলবে? যুদ্ধের আকাশের মতোই ভ্রমণ ব্যবসায়ীদের কাছেও আপাতত মেঘাচ্ছন্ন সমস্তটা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন