Kalicharan Banerjee Arrest Case

‘আমি জানি না, কিচ্ছু জানি না’, এর বাইরে আর কিছু বলছেন না ফিরহাদের প্রাক্তন ওএসডি! কী কী মিলেছে ধৃত কালীর ফ্ল্যাটে?

তারাতলা বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে পুলিশ বলেছিল ‘টিমওয়ার্ক’-এর কথা। সেই ‘টিমে’ সদ্যপ্রাক্তন মেয়র ফিরহাদের হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ২০:৫১
Share:

তারাতলাকাণ্ডে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছেন কলকাতা পুলিশের হাতে। —ফাইল চিত্র।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে পুলিশ বলেছিল, ‘‘এটা টিমওয়ার্ক।’’ সেই ‘টিমে’ কে কে ছিলেন? ‘অধিনায়ক’ই বা কে? জবাব খুঁজতে গিয়ে যত বারই সদ্যপ্রাক্তন মেয়রের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ প্রশ্ন করেছে, জবাব একটাই এসেছে— ‘‘জানি না।’’ ফের প্রশ্ন করলে আর একটি শব্দ যোগ করে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি কিছু জানি না।’’

Advertisement

দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় গত ২৫ জুন গ্রেফতার হন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ছিল, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ ঘটনাক্রমে ৪ জুলাই পর্যন্ত কালীচরণকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। এর আগের শুনানিতে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জানান, ধৃত কী কী কাজ করতেন, তার কিছুটা আভাস পাওয়া যাবে কেস ডায়েরিতে। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশেরও দাবি, কোনও নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সেটা করিয়ে দিতেন কালীচরণই। গত শুক্রবারের শুনানিতে বার বার সে জন্য ‘টিমওয়ার্ক’ শব্দে জোর দিয়েছিল তারা। অর্থাৎ, পুলিশের দাবি, একা কালীচরণ নন, অনিয়মের নেপথ্যে আরও অনেকে রয়েছেন। তাঁদের খোঁজ চলছে।

তারাতলার যে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়েছে, তাতে কলকাতা পুরসভার অনুমোদন ছিল, তা নিশ্চিত। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীই বলেছেন যে, ওই গুদামের অনুমোদনপত্রে সই ছিল খোদ ফিরহাদের (তখনও তিনি মেয়র)। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, এ সংক্রান্ত যা-ই প্রশ্ন করা হয়েছে ফিরহাদের প্রাক্তন ওএসডি-কে, তিনি জানিয়েছেন, জানেন না!

Advertisement

রবিবার হাওড়ার শিবপুরে কালীচরণের ফ্ল্যাটে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তারা ধৃত কালীচরণকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, কালীচরণের বাড়ি থেকে মোবাইল এবং বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেই সব নথি-ই যে তারাতলা সংক্রান্ত, এমনটা নয়। তবে তদন্তের প্রয়োজনে পুরসভা সংক্রান্ত সেই সব নথি কাজে লাগতে পারে।

কলকাতা পুলিশের একটি সূত্রে খবর, কালীচরণকে গ্রেফতারের পরে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যুক্ত ছয় ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সকলেই প্রায় ‘লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার’-এরহ সঙ্গে যুক্ত।

তারাতলা বিপর্যয়ের পর গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর অফিস থেকে ওই গুদাম সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন জখম শ্রমিকের বয়ান নিয়েছে পুলিশ। বোঝার চেষ্টা চলছে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে ঠিক কত জন ছিলেন ওই গুদামে। গুদামের কোনও ‘রেজিস্টার’ নেই। তাই সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে এখনই একমত হওয়া যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত জখম এবং নিহত মিলিয়ে ৩৩ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। আরও কেউ ছিলেন কি না, জানার চেষ্টায় তদন্তকারীরা।

কালীচরণকে জেরার পাশাপাশি তারাতলাকাণ্ডে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ওই গুদাম তৈরির আগে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কোনও পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কি না এবং গুদাম তৈরিতে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছিল কি না, জানার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে পুরসভাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ। একই সঙ্গে তারাতলায় বিপর্যস্ত সেই গোডাউনের তৈরির আগে ‘সয়েল টেস্ট’ নিয়ে ⁠পোর্ট ট্রাস্টের কাছেও তথ্য জানতে চেয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, তারাতলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছিল কলকাতা পুলিশ। প্রথমে মোট পাঁচ জনের নাম ছিল এফআইআরে। তাঁদের মধ্যে প্রধান ঠিকাদার আসগর হুসেনের দেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়। বাকি চার জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জন অয়ন ট্রেডার্সের বিল্ডিং সুপারভাইজ়ার মহম্মদ গুলজ়ার। এই সংস্থাটিও গুদামের ছাদ তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। তাদের কাছ থেকেও গুদাম তৈরি সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement