Olympics 2028

অলিম্পিক্সের ২২ গজে ভারত-পাক লড়াই অনিশ্চিত, যোগ্যতা অর্জনের নিয়মে দু’দলেরই সুযোগ পাওয়া কঠিন, নিশ্চিত নয় আয়োজক আমেরিকাও

আইসিসি এবং আইওসি অলিম্পিক্স ক্রিকেটে যোগ্যতা অর্জনের যে পদ্ধতি চূড়ান্ত করেছে, তাতে ভারত-পাকিস্তান দু’দলের সুযোগ পাওয়া কঠিন। শর্ত দেওয়া হয়েছে আয়োজক দেশ আমেরিকাকেও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ২১:৫৪
Share:

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সূর্যকুমার যাদব এবং সলমন আলি আঘা। — ফাইল চিত্র।

২২ গজের লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে এখনও। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপের মতো প্রতিযোগিতাগুলিতে এই ম্যাচ ঘুরে উন্মাদনা থাকে চোখে পড়ার মতো। তবে ২০২৮ সালের অলিম্পিক্স এই উন্মাদনা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

Advertisement

১৯০০ সালের অলিম্পিক্সে এক বার ক্রিকেট হয়েছিল। তার পর আবার ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে হবে ক্রিকেট। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণকে বাদ দিয়েই হতে পারে প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স সংস্থা (আইওসি) যোগ্যতা অর্জনের যে পদ্ধতি প্রকাশ করেছে, তাতে ভারত-পাকিস্তান দু’দলের সুযোগ পাওয়া কঠিন।

পুরুষ এবং মহিলা দু’বিভাগেই ছ’টি করে দল নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হবে প্রতিযোগিতা। প্রথম পাঁচটি দল যোগ্যতা অর্জন করবে আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকার ভিত্তিতে। প্রধান প্রতিযোগিতাগুলির ফলাফলের নিরিখে ক্রমতালিকা হবে। আগামী ছ’মাস টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিত সিরিজ়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রতিটি দলের জন্য। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়ের ফলের ভিত্তিতে তৈরি ক্রমতালিকা থেকে পাঁচটি দল সরাসরি অলিম্পিক্সে খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু ক্রমতালিকায় থাকা প্রথম পাঁচটি দল সুযোগ পাবে না। এখানে একটি শর্ত দিয়েছে আইওসি। যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা থেকে বেছে নেওয়া হবে ষষ্ঠ দলটিকে।

Advertisement

অলিম্পিক্সের আয়োজক দেশ হিসাবে আমেরিকার সরাসরি সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। আইসিসি আমেরিকার জন্যও শর্ত দিয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন থেকে ৩১ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে অন্তত এক বার আমেরিকাকে আইসিসির ক্রমতালিকায় প্রথম ১৫টি দেশের মধ্যে থাকতে হবে।

অলিম্পিক্সের মতো প্রতিযোগিতায় বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে আইওসি। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া এই চার অঞ্চল থেকে ক্রমতালিকায় যে দল এগিয়ে থাকবে তারাই শুধু সরাসরি সুযোগ পাবে। অর্থাৎ ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেপাল-সহ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে আইসিসির ক্রমতালিকায় সবচেয়ে উপরে যারা থাকবে, তারা সরাসরি অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণ করবে। এ ভাবে চারটি দলকে বেছে নেওয়া হবে। এই নিয়মে যারা অলিম্পিক্স খেলার ছাড়পত্র পাবে না, তাদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হবে একটি দল। আইসিসির ক্রমতালিকা আনুযায়ী সুযোগ না পাওয়া প্রথম আটটি দলকে নিয়ে হবে যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল অলিম্পিক্স খেলার সুযোগ পাবে। আমেরিকা শর্তপূরণ করতে পারলে ষষ্ঠ দল হিসাবে খেলার সুযোগ পাবে। না হলে একটি দলকে সুযোগ দেওয়ার অধিকার থাকবে আইসিসির। ওয়াইল্ড কার্ড এন্টি দিতে পারবেন জয় শাহেরা। ক্রমতালিকা এবং যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা থেকে সুযোগ না পাওয়া টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হবে ষষ্ঠ দলটিকে। এ ক্ষেত্রেও বিবেচ্য হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলির ক্রমতালিকায় অবস্থান।

স্বাভাবিক ভাবেই অলিম্পিক্সে ভারত—পাকিস্তান লড়াইয়ের জন্য কোনও একটি দলকে যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বা ক্রমতালিকায় উপরের দিকে থেকে ওয়াইল্ড কার্ড পেতে হবে। ক্রমতালিকার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী নিউ জ়িল্যান্ড, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড বা জ়িম্বাবোয়ের সরাসরি অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement