KMC & Contractors

ঠিকাদারদের পাওনা মেটাতে বিশেষ সেল গঠন কলকাতা পুরসভার, নজরদারির দায়িত্বে পুর কমিশনার

অতীতে বহু ক্ষেত্রে কাজ শেষ হলেও বিল মেটাতে দেরি হওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। কোথাও কোথাও লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া বছরের পর বছর পড়ে থাকার অভিযোগও উঠেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ঠিকাদাররা যাতে তাঁদের কাজের প্রাপ্য টাকা দ্রুত পেয়ে যান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা। পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তার নির্দেশে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য কাজ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই বিলের নিষ্পত্তি করা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির আওতায় শহর জুড়ে একাধিক ছোট ও বড় প্রকল্প চলছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনও অনিশ্চয়তা রাখতে চাইছেন না পুরসভার কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

পুরসভার অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, অতীতে বহু ক্ষেত্রে কাজ শেষ হলেও বিল মেটাতে দেরি হওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। কোথাও কোথাও লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া বছরের পর বছর পড়ে থাকার অভিযোগও উঠেছিল। ফলে নতুন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিতে অনেকে আগ্রহ দেখাননি। এই পরিস্থিতি বদলাতেই দ্রুত বিল ছাড়ের জন্য আলাদা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরো বিষয়টির উপর নজরদারি করবেন পুর কমিশনার। যে লক্ষ্যে এই নতুন সেলটি গঠন করা হয়েছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।

নতুন এই সেলে মোট কুড়ি জন কর্মীকে বিশেষ ভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাজ হবে বিল যাচাই, নথি সম্পূর্ণ করা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা। আধিকারিকদের মতে, এই কর্মসূচির অধীনে কাজের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি এবং ছোট ছোট প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ন’হাজারের মতো বিল তৈরি হবে। এত বিপুল সংখ্যক ফাইল একসঙ্গে নিষ্পত্তি করতে না পারলে সময় লাগত অনেক, তাই আলাদা দল গঠন করা হয়েছে। এক পুরকর্তা বলেন, “ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পগুলির জন্য অর্থ আলাদা ভাবে বরাদ্দ রয়েছে। কাজ শেষ করে বিল জমা দিলেই যত দ্রুত সম্ভব টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এতে কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে।’’

Advertisement

পুরসভার আশা, বিশেষ সেল সক্রিয় হলে বিল সংক্রান্ত জট কমবে, ঠিকাদারদের আস্থা ফিরবে এবং শহরের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সময়মতো শেষ করা সম্ভব হবে। নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পাশাপাশি, নিয়ম অনুযায়ী বিল জমা পড়ার পর অর্থ বিভাগকে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ফাইলের অগ্রগতি নজরে রাখা হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় দেরি, বার বার নথি ঘোরানো ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা। ঠিকাদার সংগঠনগুলিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement