KMC Fire Safety

কলকাতায় পর পর অগ্নিকাণ্ড, পুরসভার ভবনগুলির সুরক্ষায় শুরু হচ্ছে মহড়া

এই মহড়ায় শেখানো হবে কী ভাবে প্রাণরক্ষা করা যায়, আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায় এবং সম্পত্তি রক্ষা করা যায়। পুরসভার প্রতিটি বিভাগীয় কর্মী ও আধিকারিককে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৫ ১৫:৪২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিট, মেছুয়া ফলপট্টি, মিন্টো পার্ক— পর পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কলকাতায়। একাধিক মানুষের প্রাণহানি, আটকে পড়া মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনায় উদ্বিগ্ন কলকাতা পুরসভা। এ বার নিজেদের ভবনগুলিতে কর্মরত আধিকারিক, কর্মী, এমনকি সিভিক ভলান্টিয়ারদের ‘ফায়ার সেফটি’ প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে। শনিবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার ধবল জৈনের নির্দেশে সচিব স্বপন কুণ্ডু একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলিতে প্রাণহানি ও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় আগুন নেভানোর মহড়া ও সচেতনতা শিবিরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই পুরভবনে যদি অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেই পরিস্থিতিতে কী ভাবে দ্রুত ও নিরাপদে ব্যবস্থা নিতে হবে, তা শেখানো হবে।

Advertisement

এই মহড়ায় শেখানো হবে কী ভাবে প্রাণরক্ষা করা যায়, আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায় এবং সম্পত্তি রক্ষা করা যায়। পুরসভার প্রতিটি বিভাগীয় কর্মী ও আধিকারিককে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। থাকছেন সিভিক ভলান্টিয়াররাও। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মূল ভবনে প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হবে। দুই ধাপে ভাগ করা হয়েছে মহড়াটি। হগ বিল্ডিং, হাডকো বিল্ডিং ও রক্সি বিল্ডিংয়ের আধিকারিক ও কর্মীরা থাকবেন প্রথম দফায়। দ্বিতীয় ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সিএমও বিল্ডিং, আইটি বিল্ডিং, চ্যাপলিন ভবন ও পিডি বিল্ডিংয়ের কর্মীদের।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একাধিক সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। সেই নির্দেশে বলা হয়েছে, সিঁড়ি ও কমন এলাকা দখল করে রাখা যাবে না, মালপত্র ফেলে রাখাও নিষিদ্ধ। ছাদ ও সিঁড়ির পথ সর্বদা খোলা রাখতে হবে, যাতে বিপদের সময় নির্বিঘ্নে বাইরে বেরোনো যায়। দমকলকর্মীরা যাতে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার করতে পারেন, তার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। পুরসভা কর্তৃপক্ষের মতে, শহরের ভবনগুলির আগুন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই এখন সবচেয়ে জরুরি। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই লক্ষ্যের দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এক পুরসভার আধিকারিকের কথায়, ‘‘কলকাতা পুরসভার বেশির ভাগ বিল্ডিং হেরিটেজ ভবন। তা ছাড়া কলকাতা শহরের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব যথেষ্ট। তাই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরসভা ভবনের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেই কারণে আমরা ‘ফায়ার সেফটি’ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement