Revenue Loss of KMC

নির্মাণ বন্ধের জের, কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব-ক্ষতির মুখে কলকাতা পুরসভা

সেই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্মাণ বন্ধের নির্দেশে রাজস্ব-ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০৭:৫৬
Share:

কলকাতা পৌরসংস্থা। ফাইল চিত্র।

তারাতলায় গুদাম-বিপর্যয়ের পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা শহরে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাবতীয় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বুধবার সন্ধ্যায় পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। শহরের বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থাকে আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে, চার সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জেরে মোটা টাকা রাজস্ব হারানোর মুখে পড়তে চলেছে পুর প্রশাসন।

পুর বিল্ডিং দফতরের মনোনীত এলবিএস (লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার)-রা জানাচ্ছেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য রিয়্যাল এস্টেট থেকে শুরু করে ছোট-বড় সৎ নির্মাণ সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে পারছে না। পুর বিল্ডিং দফতর সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোট ঘোষণা হতেই গত ২৫ মার্চ থেকে কলকাতা পুরসভার এমবিসি (মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি) বৈঠক স্থগিত আছে। শেষ এমবিসি বৈঠক হয়েছে ২৫ মার্চ। প্রতি মাসে অন্তত একটি করে ওই বৈঠক হত। ফাইল বেশি থাকলে দু’টি বৈঠকও হত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা না হওয়ায় শহরে বড় বড় নির্মাণকাজ আটকে রয়েছে। পুর বিল্ডিং দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পরে নির্মাণ ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, এ বার হয়তো শীঘ্রই এমবিসি বৈঠক চালু হবে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই গত ১২ মে তিলজলার গুদামে আগুন লাগে। তার পরে পুর কমিশনার সিদ্ধান্ত নেন, শহরের যে সমস্ত বেআইনি বাড়িকে টাকা নিয়ে আইনি করা হয়েছে, তার পুরোটাই অডিট করানো হবে। যার ফলে শহরের বড় জমির ক্ষেত্রে অ্যামালগামেশন (দুই বা একাধিক জমিকে একত্রিত করে বড় প্রকল্প করা) প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলেও মোটা টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সেই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্মাণ বন্ধের নির্দেশে রাজস্ব-ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিলজলায় বেআইনি গুদামে অগ্নিকাণ্ড, তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাউনি ভেঙে পড়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একের পর এক সরকারি নিদানের গেরোয় ফাঁপরে পড়েছেন নির্মাণ ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পুর বিল্ডিং দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘২৫ মার্চ থেকে এমবিসি বৈঠক স্থগিত। তার উপরে শহরে দু’টি দুর্ঘটনার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য পুরসভা কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। পুর প্রশাসকের বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ জুলাইয়ের পরে কবে থেকে নির্মাণকাজ শুরু হবে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। ফলে সার্বিক ভাবে নির্মাণ ব্যবসায়ীদের চিন্তা থাকারই কথা।’’

পুর বিল্ডিং দফতর সূত্রের খবর, হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা হয়নি, এমন ৩২০টি সম্পত্তি শিবপুর আইআইইএসটি-তে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। মউ স্বাক্ষর হলেও এখনও ওই সব সম্পত্তির গ্রেডিং হয়নি। পুরসভার এলবিএস তথা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘হেরিটেজ ঘোষণা না হওয়ায় বেশির ভাগ বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন