প্রতীকী ছবি।
ফেসবুকে এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন জগদ্দলের এক তরুণী। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের পরিণতির কথা ভাবলে এখনও শিউরে উঠছেন সদ্য বিবাহিতা।
উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ওই ‘ফেসবুক বন্ধু’ এমন ব্ল্যাকমেল শুরু করেছিল যে, তাঁর বিয়েটাই প্রায় ভাঙতে বসেছিল। তবে থানায় অভিযোগের পরে আপাতত শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে বিবেক মাহাতো নামে ওই যুবকের। জগদ্দল থানার পুলিশ তাকে গাজিয়াবাদ থেকে গ্রেফতার করে সোমবার রাতে নিয়ে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে। বিবেক ফেসবুকে ওই তরুণীকে বন্ধুত্বের আবেদন পাঠান। অভিযোগ, এর পরে বিবেক নানা ভাবে ওই তরুণীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তরুণীর দাবি, বন্ধুত্বের বাইরে আর কোনও ভাবে বিবেককে পাত্তা দেননি তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মাস দুয়েক আগে বিবেক ওই তরুণীকে জানায়, সে বিপদে পড়েছে। তার পাঁচ লক্ষ টাকা অবিলম্বে দরকার। তরুণী তাতে কোনও সাড়া দেননি। দিন কয়েক পরেই বিবেক ওই তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। তাঁকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। টাকা না পেলে তরুণীর ছবি বিকৃত করে ফেসবুক-সহ অন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। সে জানায়, তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না দেওয়া হলে, সে ওই তরুণীর ছবি বিকৃত করে তাঁর সব আত্মীয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।
এই অবস্থায় ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেন ওই তরুণী। অভিযোগ, তাতেও দমেনি বিবেক। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর ফেসবুকের ছবি আগেই ডাউনলোড করে রেখেছিল সে। সেই ছবি দিয়ে সে ওই তরুণীর নামে নতুন করে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। সেখান থেকে সে তরুণীর সব আত্মীয় ও বন্ধুকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠায়। এর পরে তরুণীর আত্মীয়দের সে ফের জানায় তরুণী তাকে টাকা না দিলে সে তাঁর ‘সর্বনাশ’ করে ছাড়বে।
এর মধ্যে জগদ্দলেরই এক যুবকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। তরুণীর আত্মীয় ও বন্ধুরা তাঁর বাগদানের কথা ফেসবুকে জানানোর পরে বিবেক সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সে তরুণীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ছবি বিকৃত ভাবে ‘সুপার ইম্পোজ’ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। তাতে প্রাথমিক ভাবে সমস্যা হলেও হবু স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে এ ক্ষেত্রে পাশে পান তরুণী।
কিছু দিন আগে বিয়ে হয় তরুণীর। পুলিশ জানিয়েছে, বিবেকের দৌরাত্ম্য তাতেও বন্ধ হয়নি। এর পরেও সে তরুণীর বিকৃত ছবি ফেসবুকে তাঁরই বন্ধুদের পাঠাতে থাকে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই তরুণীর পাশে দাঁড়ান। সপ্তাহখানেক আগে জগদ্দল থানায় বিবেকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তের পরে গাজিয়াবাদ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জগদ্দল থানার পুলিশ। শনিবার সেখানে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে পুলিশ। ব্যারাকপুর আদালত ধৃতকে পাঁচ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।