স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন জানবাজার এলাকার বাসিন্দা ব্রিজমোহন শাহ। কিন্তু আনমনা হয়ে বাসে টাকার ব্যাগ ফেলে নেমে পড়েন। যখন ওই ব্যাগের কথা মনে পড়ে তখন বাস চলে গিয়েছে নাগালের বাইরে। কলকাতা পুলিশের সাহায্যে প্রায় তিন ঘণ্টা পরে অবশ্য উদ্ধার হয় ওই টাকা।
কী হয়েছিল?
পুলিশ জানায়, ব্রিজমোহনবাবু এ দিন বিকেল চারটে নাগাদ মেয়ো রোড থেকে একটি বেসরকারি বাসে ওঠেন। সাড়ে চারটে নাগাদ মোমিনপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে নামেন তিনি। হাসপাতালে ঢোকার সময়েই খেয়াল হয় যে টাকার ব্যাগ বাসেই ফেলে এসেছেন। রাস্তায় এসেও দেখা মেলেনি বাসের। ওই বাসেই রয়ে যায় আশি হাজার টাকা। বেহালাগামী ওই বাসের খোঁজে তিনি বেরিয়ে পড়েন এক অপরিচিত ব্যক্তির মোটরবাইকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেহালার কাছে তখন ডিউটি করছিলেন ডায়মন্ডহারবার ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট মানস চক্রবর্তী। ব্রিজমোহনবাবু তাঁকে বিষয়টি জানান। তাঁর কাছে বাসের টিকিট থাকায় নম্বর দেখে তিনি মানস সরকার নামে অন্য এক সার্জেন্টকে ফোন করেন। শুরু হয় খোঁজ। পুলিশ জানায়, এর পরেই প্রতিটি মোড়ের ট্রাফিক সার্জেন্টকে ফোন করে বাসের নম্বর দেওয়া হয়। ওই নম্বর দেখে পুরো বেহালা এলাকায় খোঁজ শুরু হয়। খবর আসে বেহালার স্ট্যান্ড থেকে ওই বাস বেরিয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ বেহালা চৌরাস্তায় বাসটিকে চিহ্নিত করেন সার্জেন্ট অনিমেষ বিশ্বাস।
ওই ট্রাফিক গার্ডের ওসি আশিস রায় বলেন, ‘‘বাসে উঠে দেখা যায়। ইঞ্জিনের পাশে পড়ে রয়েছে একটি কাপড়ের ব্যাগ।’’ তার ভিতরেই অক্ষত রয়েছে আশি হাজার টাকা।’’ টাকা পেয়ে ব্রিজমোহনবাবু বলেন, ‘‘পুলিশ যে ভাবে সাহায্য করেছে তাতে আমি খুশি।’’ শুধু তাই নয়, ওই টাকা উদ্ধারের পরে ব্রিজমোহনকে গাড়ি করে মোমিনপুরের ওই হাসপাতালে ছেড়ে যায় পুলিশ।