Body Recovered in Sarsuna

যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার সরশুনায়! স্ত্রীকে দুষে থানায় পরিবার, মৃতের বিরুদ্ধে ছিল নির্যাতনের অভিযোগ

পুনিতা প্রতিবেশীদের নিয়ে মূল ফটকের সামনে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কাঠের দরজা অর্ধেক খোলা রয়েছে। নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে পুনিতা লোহার গেট খুলে দেখেন, ঘরের ভিতরে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন সানি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

সরশুনায় বন্ধ ঘর থেকে ‘নাটকীয় ভাবে’ উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। তাঁর নাম সানি সিংহ। বয়স ৩৪ বছর। মৃতের স্ত্রী এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছে সানির পরিবার। তবে অভিযুক্ত পুনিতা সিংহের অভিযোগ, তাঁর স্বামী মদ্যপ ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হত স্বামী-স্ত্রীর।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের কাছে ফোন আসে যে, সরশুনায় এক যুবক গলায় দড়ি দিয়েছেন। খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ। সরশুনার বাড়িতে গিয়ে তারা দেখে, স্ত্রী পুনিতার কোলে পড়ে রয়েছে সানির অচৈতন্য দেহ। সেখানে জড়ো হয়েছেন আরও কয়েক জন প্রতিবেশী।

কল্লোল হিরক নামে এক প্রতিবেশী পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ফোন করেছিলেন পুনিতা। ৩৩ বছরের তরুণী জানান, তাঁর বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি এবং কন্যা তানিশা সিংহ ভিতরে আটকে রয়েছেন। এর পরে বিষয়টি অন্য প্রতিবেশীদের জানান কল্লোল। তাঁরা সকলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। এর পরে বেডরুম সংলগ্ন বারান্দা নিয়ে নীচে নেমে আসেন পুনিতা।

Advertisement

এর পরে পুনিতা প্রতিবেশীদের নিয়ে মূল ফটকের সামনে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কাঠের দরজা অর্ধেক খোলা রয়েছে। পুনিতার অভিযোগ, ঝগড়ার সময় সেই কাঠের দরজার লক ভেঙেছিলেন সানি। নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে পুনিতা লোহার গেট খুলে দেখেন, ঘরের ভিতরে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন সানি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশীরাও। তার পরেই তাঁরা ১০০-তে ফোন করে থানায় খবর দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সানির দেহে কোনও ক্ষতচিহ্ন ছিল না। যে ওড়না গলায় জড়িয়েছিলেন, সেটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন পুনিতা। ১৯ জানুয়ারি রাতে আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। পুনিতার অভিযোগ, তাঁকে এবং তাঁদের কন্যাকে বাড়ি থেকে বার করে দেন সানি। পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা আবার বাড়িতে প্রবেশ করেন।

সানির দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, গলায় ফাঁস লাগার কারণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যখন গলায় ফাঁস লাগানো হয়, তখন বেঁচে ছিলেন তিনি। সানির বোন সঙ্গীতা শাউ পুনিতা এবং তাঁর ভাই রাকেশ পাসোয়ানের নামে খুনের অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement