মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিভ্রান্ত যাত্রীরা। স্টেশনে ভিড়। —ফাইল চিত্র।
সপ্তাহের প্রথম দিনে কলকাতার মেট্রোর ব্লু লাইনে (দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম) ফের বিভ্রাট। সাতসকালে অনিয়মিত পরিষেবা। যার ফলে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের দিকে বেশ কিছু ক্ষণ মেট্রো বন্ধ ছিল। পরে মেট্রো চলাচল শুরু হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। তবে মেট্রোর অ্যাপে দাবি করা হয়েছে, সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। যদিও বাস্তব অন্য কথা বলছে।
মেট্রোরেলের তরফে সকালে জানানো হয়েছিল, অনিবার্য কারণে ব্লু লাইনের সম্পূর্ণ অংশে মেট্রো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) পর্যন্ত মেট্রো চলছে বলে দাবি করা হয় মেট্রোরেলের অ্যাপে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে গিয়ে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রো মেলেনি। তার ঘণ্টা খানেক পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। টালিগঞ্জ থেকে মেট্রো চললেও তা ভিড়ে ঠাসা। অনেকেই মেট্রোয় উঠতে পারছেন না। তবে উল্টো দিকে অর্থাৎ, দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের দিকে পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার এমনিতেই সকাল থেকে মেট্রোর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সপ্তাহের প্রথম দিনে বহু অফিসযাত্রীর সম্বল মেট্রো। নির্দিষ্ট সময়ে মেট্রো না-আসায় এবং পরিষেবা বেশ কিছু ক্ষণ বন্ধ থাকায় স্টেশনগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পরে মেট্রো চলাচল শুরু হলেও তাই ভিড় সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মেট্রো স্টেশনের পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় কবি সুভাষ স্টেশন অনেক দিন ধরে বন্ধ। আপাতত ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত পরিষেবা পাওয়ার কথা যাত্রীদের। কিন্তু অভিযোগ, অনেক সময়েই শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো যায় না। টালিগঞ্জকেই অন্তিম স্টেশন করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা করা হয় কোনওরকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই। এর ফলে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। এ ছাড়া, সিগ্ন্যালের সমস্যা, আত্মহত্যার চেষ্টার মতো সমস্যাতেও প্রায়ই মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। ভুগতে হচ্ছে যাত্রীদের।