আইএসআই চত্বরেও মিলল অসংখ্য লার্ভা

গবেষণার উৎকর্ষ-কেন্দ্রে মশার আঁতুড়ঘর পাওয়ার ধারা অব্যাহত। সেই তালিকায় বৃহস্পতিবারের সংযোজন বনহুগলির ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই)।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৬ ০০:০০
Share:

আইএসআই চত্বরে জমা জঞ্জাল। বৃহস্পতিবার। —নিজস্ব চিত্র।

গবেষণার উৎকর্ষ-কেন্দ্রে মশার আঁতুড়ঘর পাওয়ার ধারা অব্যাহত। সেই তালিকায় বৃহস্পতিবারের সংযোজন বনহুগলির ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই)।

Advertisement

গবেষণায় দেশের প্রথম সারির এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেহারা আপাত দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্ন হলেও তার আনাচে-কানাচে মশার লার্ভার বাড়বাড়ন্তের কথা বোধহয় জানা ছিল না কারও। জানা গেল এ দিন সকালে, বরাহনগর পুরসভার ডেঙ্গি-অভিযানে। বিটি রোডের ধারে ওই ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এমনটাই দাবি করলেন পুরকর্মীরা।

এ দিনই সকাল থেকে হাওড়ার চারটি স্কুলে অভিযান চালিয়েও প্রচুর পরিমাণে ডেঙ্গিবাহী মশার লার্ভা উদ্ধার করেন পুরকর্মীরা। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য খুদে পড়ুয়ার আসা-যাওয়া, সেখানে এ ভাবে মশার চাষ স্কুল কর্তৃপক্ষের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Advertisement

বরাহনগর পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (জঞ্জাল অপসারণ) দিলীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘‘পুর-এলাকার মধ্যেই আইএসআই। স্বাস্থ্য ও জঞ্জাল বিভাগের কর্মীরা পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে প্রচুর মশার লার্ভা পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদেরও তা জানানো হয়েছে।’’ তবে অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বনহুগলির এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি সাফসুতরো বলেই এ দিন দাবি করেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আইএসআই-এর এক কর্তা। তাঁর দাবি, ‘‘এখানে পুরসভা মশার লার্ভা পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। প্রতিদিন ক্যাম্পাস সাফাই হয়। কোথাও একটুও নোংরা দেখা যাবে না।’’

পুরকর্মীরাও জানান, আইএসআই ক্যাম্পাসে কোথাও তেমন নোংরা-আবর্জনা মেলেনি। এমনকী, প্রতিটি বিল্ডিংয়ের পিছন দিকও পরিষ্কার। তবু এই ক্যাম্পাসেই ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মশার লার্ভা মিলেছে বলে দাবি বরাহনগর পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের। তাঁরা জানান, আপাতদৃষ্টিতে চোখে না পড়লেও বাগানের যত্রতত্র ছড়ানো প্লাস্টিকের কাপ, মাটির ভাঁড়, ফয়েল, ভাঙা বোতল, ভাঙা চেয়ার, কৌটোয় জমে থাকা একটু জলেই বংশবিস্তার করেছে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মশা।

এ কথা শুনে অবশ্য আইএসআই-এর ওই কর্তা বলেন, ‘‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। মানুষকে নিজেকেই সচেতন হতে হবে। ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। আরও বাড়াতে হবে।’’ তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের তরফে নিয়মিত মশার তেল, ধোঁয়া ছড়ানো হয়। অন্য দিকে বরাহনগরের পুর-চেয়ারপার্সন অপর্ণা মৌলিক বলেন, ‘‘ওই প্রতিষ্ঠানে সব সময়ে ঢোকার অনুমতি নেই। ওঁরাই সাফাই করেন। আজ ওঁদের জানিয়ে অনুরোধ করে ভিতরে ঢুকেই লার্ভা থাকার কথা জানা গেল।’’

অন্য দিকে, এ দিন হাওড়ার চারটি স্কুলে ঘোরার পরে পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) ভাস্কর ভট্টাচার্যের অভিজ্ঞতা, ‘‘স্কুলগুলির এমন দশা ভাবাই যায় না। আসলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভাবতে পারেননি এমন জায়গাতেও জমা জলে ডেঙ্গির মশার লার্ভা থাকতে পারে।’’ হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস জানান, এ দিন পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১১৪ জন।

এ দিন সকালে পুর-স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের নিয়ে লিলুয়া ভট্টনগর কুলকামিনী বিদ্যালয়, বেলুড় লোকসেবা সমিতি প্রাথমিক হিন্দি বিদ্যালয়, বেলুড় উচ্চ বিদ্যালয়, বেলুড় বালিকা বিদ্যালয়ের হাল দেখতে যান ভাস্করবাবু। পরে তিনি হাওড়া জেলও পরিদর্শন করেন। এর আগেও হাওড়ার বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজে ডেঙ্গির লার্ভা মিলেছে। এর পরেই হাওড়ার সমস্ত স্কুল-কলেজে তেল, ধোঁয়া ছড়ানো শুরু করা হয়েছে।

কিন্তু শেষ বেলায় ঘুম ভেঙে কি মশার চাষ বন্ধ করা যাচ্ছে? ভাস্করবাবুর দাবি, ‘‘এমন নয় যে, ডেঙ্গি ধরা পড়ার পরে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ধোঁয়া ও তেল ছড়ানোর পরেও কী হাল, তা দেখতেই এখন স্কুল-কলেজে যাচ্ছি।’’

পুরসভা সূত্রের খবর, লিলুয়ার স্কুলটিতে একটি ভাঙা টিউবওয়েলের ভিতরে জমা জলে গিজগিজে লার্ভা। সেটিকে বালির বস্তা দিয়ে ভরে দিয়েছেন পুরকর্মীরা। বেলুড়ের হিন্দি স্কুলটির ছাদের এক কোণে এবং জলের ট্যাঙ্কের ঢাকনার বসে যাওয়া অংশে জমা অল্প জলেই মিলেছে লার্ভা। বেলুড় উচ্চ বিদ্যালয় ও বেলুড় বালিকা বিদ্যালয়ে আবার চারপাশ পরিষ্কার থাকলেও নজরের আড়ালে থাকা জায়গাগুলিতে লার্ভা মিলেছে বলেই জানান মেয়র পারিষদ।

ভাস্করবাবু জানান, বেলুড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মীয়মাণ একটি অংশে মেঝের সিমেন্ট উঠে ছোট পাত্রের আকার নিয়েছে। তাতে জমে থাকা বৃষ্টির জলে কিলবিল করছে ডেঙ্গির মশার লার্ভা।

স্কুলের টিচার ইন-চার্জ অঘোরচন্দ্র সাহা বললেন, ‘‘নির্মাণকাজ চলছে। বৃষ্টিতে এমন জায়গায় জল জমতে পারে, বোঝা যায়নি। মেয়র পারিষদের কথা মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’

বেলুড় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আবার পতাকার বেদীতে ছোট গর্তের জলে মিলেছে লার্ভা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement