মশার বংশ রুখতে প্লাস্টিক কাপ বন্ধ করতে চায় পুরসভা

প্লাস্টিক কাপে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করতে শহরের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পুরসভা। কলকাতায় ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা জরুরি বলেই মনে করছে পুর-প্রশাসন। আর সে ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পুর-প্রতিনিধিদের হাতেই ছেড়ে দিতে চান মেয়র।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৬ ০০:০০
Share:

প্লাস্টিক কাপে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করতে শহরের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পুরসভা। কলকাতায় ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা জরুরি বলেই মনে করছে পুর-প্রশাসন। আর সে ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পুর-প্রতিনিধিদের হাতেই ছেড়ে দিতে চান মেয়র। খুব শীঘ্রই মেয়রের সেই নির্দেশ সংবলিত চিঠি পুর-প্রতিনিধিদের হাতে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। বর্তমান মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় আবার রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রীও।

Advertisement

পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে পতঙ্গবিদদের মনে হয়েছে, ছোট ছোট পাত্রে জমা জলেই ডেঙ্গিবাহী মশার লার্ভা বেশি মিলেছে। তাঁদের মতে, ‘ন্যাশনাল ভেক্টর বোর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, ওই সব পাত্রের জমা জল থেকেই এডিস ইজিপ্টাইয়ের বংশবৃদ্ধি দ্রুত হারে হয়। তাই সেই উৎসস্থল প্রথমেই খতম করা দরকার। মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ জানান, সম্প্রতি শহরের যে কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্কুল এবং কলেজে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে অনেক প্লাস্টিকের কাপ মিলেছে। যার অধিকাংশই জমা জলে ভরা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে ঠিকই। তবে সারা শহর থেকে প্লাস্টিকের কাপ তুলে দিতে এখনই পদক্ষেপ করা দরকার বলে মনে করেন অতীনবাবু। তিনি জানান, কাগজের কাপ বা মাটির ভাঁড়ে চা খেলে কোনও অসুবিধা নেই। সেগুলো জলে ভিজে মাটির সঙ্গে মিশে যায় বা ভেঙে যায়। সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিকের কাপে। বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলরদের সতর্ক করার কথা জানিয়েছেন মেয়রও। দিন কয়েকের মধ্যেই শহরের সব প্রতিষ্ঠানে মেয়রের এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে পুরসভা সূত্রের খবর।

গত ৮ অগস্ট পুরসভার ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা-দমন বাহিনী রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে অভিযান চালায়। সে দিন ওই কলেজের বিভিন্ন জায়গায় ডাঁই হয়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্রে ডেঙ্গিবাহী মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল। ওই প্রতিষ্ঠানে পুরসভার প্রথম অভিযান হয়েছিল ৪ অগস্ট। সে দিনই পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছিল, সাত দিনের মধ্যে সব পরিষ্কার করতে হবে। এ দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরসভাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সায়েন্স কলেজ চত্বরে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেই সূত্রে এ দিন ওই কলেজে ফের অভিযান চালায় পুরসভার বাহিনী। অতীনবাবু জানান, পুরসভার বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে একটিও মশার লার্ভা পায়নি। তিন আগেও বিজ্ঞান সাধনার ওই কেন্দ্রের নানা জায়গায় কিলবিল করা মশার লার্ভা দেখে কপালে চোখ উঠেছিল পুর-প্রশাসনের, এখন তা উধাও হওয়ায় খুশি পুরসভাও। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যা তিন দিনে করা গেল, তা কেন আগে করা হয়নি? স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘সচেতনতার অভাব এখানেই। সবটা পুরসভা করবে, এমন ধারণা থাকায় শহরের বহু প্রতিষ্ঠানে জমা জলে হাজার হাজার ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়াবাহী মশা ডিম পেড়ে চলেছে।’’

Advertisement

এ দিন এসএসকেএমেও ফের অভিযান চালান পুরকর্মীরা। পুরসভা সূত্রের খবর, কাজ হয়েছে সেখানেও। একমাত্র রিউম্যাটোলজি বিভাগের বাইরে খোলা পাত্রে ও গ্রুপ ডি আবাসনের কাছে ফেলে রাখা পাত্রে এডিসের লার্ভা মিলেছে। কলেজের অন্যত্র মশা নিবারণের চিত্রটা ভালই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement