আইআইএম কলকাতায় বসানো হনুমান মূর্তি। — নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোটের আবহে রাজ্যের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রামনবমী উদ্যাপনের চেষ্টার পরে এ বার হনুমানজিরও আবির্ভাব দেখা যাচ্ছে। জোকায় ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, কলকাতা’ (আইআইএমসি)-র প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে নতুন হনুমান মন্দিরের বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল।
আইআইএমসি-র অধিকর্তা অলোককুমার রাই বিষয়টির পিছনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহের কথা মেলে ধরেন। তিনি বলেন, “এ সবই ছাত্রদের উদ্যোগ। ছাত্রদের হস্টেল তল্লাটের দিকেই নতুন মন্দির তৈরি হয়েছে।” তাঁর কথায়, “পাশেই শিব এবং তারা মায়ের একটি মন্দির অনেক দিন ছিল। ছাত্রদের মধ্যেই দাবি ছিল, হনুমানজির মন্দিরের জন্য।” প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকদের কয়েক জনও বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। অধিকর্তার ওয়টস্যাপ স্টেটাসেও গৈরিক পতাকাখচিত মন্দিরে নতুন বিগ্রহের ছবি দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সাম্প্রতিক অতীতে বম্বে আইআইটি-তে গোশালার পত্তন, দিল্লি আইআইটি-তে গোমূত্র নিয়েগবেষণার উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। আইআইএম, কলকাতার শিক্ষাঙ্গনে হনুমান আরাধনাতেও বদলের সঙ্কেত দেখছেন অনেকে। আইআইএমসি-র দীর্ঘদিনের পুরনো শিক্ষক, অধ্যাপকেরা বলছেন, কর্মচারী বা শিক্ষাকর্মীদের একাংশের উৎসাহে ছোট শিব, কালীর মন্দির ক্যাম্পাসে বহু দিনই ছিল। কিন্তু, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কখনওই তার কোনও রকম সম্পর্ক ছিল না।
পুরনো অধ্যাপকদের কথায়, আইআইএমসি-র প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ বরং বরাবরই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মেনে চলত। তিন দশক আগে আইআইএম কলকাতায় দেশের মনীষীদের স্মরণে সেন্টার ফর হিউম্যান ভ্যালুজ় গড়ার সময়ে ধর্মীয় আচার মেনে পুজোর অনুষ্ঠান নিয়েও শিক্ষকদের একাংশ প্রতিবাদ করেছিলেন।
নতুন আইআইএম আইন অনুযায়ী, আজকের নয়া ধাঁচের আইআইএমসি এখন সরকারি আমলা পরিচালিত প্রশাসকমণ্ডলী বা বোর্ড অব গভর্নর্সের অধীনে। এর চরিত্রেও নানা বদল এসেছে বলে সূত্রের খবর। ইদানীং প্রতিষ্ঠানের লিঙ্কডইন পেজ থেকে রামনবমীর মতো অনুষ্ঠানে অযোধ্যার রামমন্দির বা বিগ্রহের ছবি-সহ ‘জয় শ্রীরাম’ সম্ভাষণে শুভেচ্ছা-বার্তা পাঠিয়ে থাকেন নতুন অধিকর্তা। অথচ, ইদের মতো সর্বভারতীয় উৎসবে নৈঃশব্দ্যই দস্তুর। বিষয়টি আইআইএমসি-র শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্রদের অনেকেরই চোখে লাগেবলে খবর।
বছর দেড়েক আগে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের কয়েক জন সাধুর আইআইএম কলকাতা সফর উপলক্ষে শিক্ষিকা বা মহিলা শিক্ষাকর্মীদের কিছুটা সময় ত্রিসীমানায় আসতে বারণ করা হয়েছিল। তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ ইমেলে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু আজকের আইআইএমসি-র পরিবেশে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাধীন মত প্রকাশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলেই বেশির ভাগের ধারণা।
তবে আজ, শনিবার প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তনের প্রাক্কালে সেখানকার আচার, অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানারছোঁয়াচ আমদানিতেও জোর দিচ্ছেন বর্তমান অধিকর্তা। তিনি জানান,এখন ফটকে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে। সমাবর্তনে কাঁথা স্টিচের উত্তরীয় পাবেন ডিগ্রি প্রাপকেরা। শিক্ষা প্রাঙ্গণের হ্রদগুলি দক্ষিণ দিনাজপুরের বাঁশের বেড়ায় সাজছে। বাংলা ভাষাশিক্ষা চালুরও পরিকল্পনা আছে। অলোক বলেন, “আমরা চাই, আইআইএমসি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সকলেই একটুখানি পশ্চিমবঙ্গ সঙ্গে নিয়ে যান।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে