চিড়িয়াখানায় আসছে নতুন সাত অতিথি

বিপন্ন প্রজাতির দু’টি নিশাচর প্রাণী গুয়াহাটির চিড়িয়াখানা থেকে নতুন অতিথি হয়ে আসছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিথি তালিকার প্রথমেই রয়েছে, এক জোড়া ‘বেঙ্গল স্লো লোরিস।’ যারা লজ্জাবতী বাঁদর হিসেবে পরিচিত।

Advertisement

দেবাশিস দাস

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৭
Share:

লজ্জাবতী বাঁদর

বিপন্ন প্রজাতির দু’টি নিশাচর প্রাণী গুয়াহাটির চিড়িয়াখানা থেকে নতুন অতিথি হয়ে আসছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিথি তালিকার প্রথমেই রয়েছে, এক জোড়া ‘বেঙ্গল স্লো লোরিস।’ যারা লজ্জাবতী বাঁদর হিসেবে পরিচিত। আটের দশকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় গেলে চিলড্রেন্স পার্কে লজ্জাবতী বাঁদর দেখা যেত বলে অনেকেই জানাচ্ছেন। স্মৃতি হাতড়ে প্রবীণ দর্শকদের অনেকেই সে কথা জানালেও আলিপুর চিড়িয়াখানার পুরনো সেই লজ্জাবতী বাঁদরের কি হল তা অবশ্য জানাতে পারেননি চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ। প্রাণীবিদেরা জানান, এরা এতটাই লাজুক যে দিনের আলোয় মুখ বার করতে চায় না। সারা দিন এরা বড় গাছের ডালে বা কোটরে ঘুমোয়। শুধু দিনেই নয়, রাতে যখন শিকারের খোঁজে বের হয় তখনও এদের লজ্জা কাটে না। চোখে আলো পড়লেই সামনের দু’হাত তুলে মুখ ঢাকে। লজ্জা কাটতে সময় লাগে অন্তত কুড়ি মিনিট। তবে লাজুক হলেও দশ থেকে বারো ইঞ্চি লম্বা এই নিশাচর প্রাণীটি আত্মরক্ষায় যথেষ্ট সক্ষম বলে জানান গবেষকরা। তাঁদের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য এদের হাতের নীচে লুকোনো থাকে বিষের থলি। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের জঙ্গলে এক সময়ে এদের দেখা যেত।

Advertisement

আলিপুর চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন অতিথির তালিকায় রয়েছে ‘চারটি লেপার্ড’ ক্যাট। যারা ‘চিতা বিড়াল’ হিসেবে পরিচিত। গুয়াহাটির চিড়িয়াখানা থেকেই এদের আনা হচ্ছে। প্রাণী গবেষকরা জানান, গায়ে চিতাবাঘের মতো ছোপ ছোপ দাগ থাকলেও এরা আসলে বিড়াল। কিন্তু গায়ে ওই ছোপ ছোপ দাগের জন্যই এদের ‘চিতা বিড়াল’ বলা হয়।

একাধিক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ জানান, এক সময়ে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এদের দেখা মিললেও, এখন আর সেই ভাবে দেখা যায় না। তাঁদের বক্তব্য, এই নিশাচর প্রাণীটিও এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর এই দুই নতুন অতিথির বদলে আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে গুয়াহাটির চিড়িয়াখানায় চারটি হায়না যাবে।

Advertisement

এ ছাড়াও দু’টি ময়না পাখি এবং দু’টি ম্যাকাও আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে রউরকেলার চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে বলে এক আধিকারিক জানান। পরিবর্তে রউরকেলার চিড়িয়াখানা থেকে আসছে একটি চৌশিঙা হরিণ। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিরল প্রজাতির এই হরিণটি গুজরাট, রাজস্থানের কিছু এলাকায় দেখা গেলেও দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে একে বারে দুষ্প্রাপ্য।

আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত বলেন, ‘‘সরকারি স্তরের যাবতীয় কাজ শেষ। মার্চ মাসের শেষে, অথবা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এই সব নতুন অতিথিরা এসে যাবে বলে আশা করছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement