— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের বাজেটে চলতি ভাতা, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভাতা বেড়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের। এমনকি, বেকারদের ভাতা দেওয়ার নতুন ঘোষণাও করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী বা বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ২০১১ সাল থেকে যে মাসিক১০০০ টাকা ভাতা পেতেন, তার পরিমাণ একই রয়েছে। আন্দোলন, রাস্তায় নেমে বহু প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও ভাতা বাড়েনি সামান্যও। তাঁদের অভিযোগ, এমনিতেই তাঁরা বহু অধিকার থেকে নানা ভাবে বঞ্চিত হন। এত ধরনের ভাতা যেখানে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধির কথা কেন ভাববে না রাজ্য সরকার? বিশেষ ভাবে সক্ষমেরা কেন বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে যাবেন?
বিশেষ ভাবে সক্ষম অনেকেই জানাচ্ছেন, এমনিতেই তাঁদের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবন নির্বাহ করতে হয়। অনেক প্রতিবন্ধী মানুষই কাজ করতে অক্ষম। ওইভাতার টাকা তাঁদের একটা বড় সম্বল। গত ৩ ডিসেম্বর প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর ডাকে রানি রাসমণি রোডে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেও এ রাজ্যেপ্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতার বিষয়টি উঠে আসে। অথচ, প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক রাজ্যই এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের থেকে।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর এক সদস্য তথা হাওড়ার আনন্দভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলেরটিচার ইন-চার্জ অজয় দাস বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্যে ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা থেকে শুরু করে তার বেশিসমস্যা থাকা সমস্ত প্রতিবন্ধীরাই মাত্র ১০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পান। সেখানে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতিবন্ধীদের মাসিকভাতা ৬০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা, হরিয়ানায় ৩০০০ টাকা, মহারাষ্ট্রে ২৫০০ টাকা,তেলঙ্গানায় ৪০০০ টাকা। এমনকি, বিহার ,অসম, গুজরাট হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশেও প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা আমাদেরথেকে বেশি। এই নিয়ে আমরা প্রতিবন্ধী দিবসের আন্দোলন করা ছাড়াও নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দফতরে অনেক বার ডেপুটেশন দিয়েছি। আমরা আশা করেছিলাম, এ বারের বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানো হবে। কিন্তু সেটা হয়নি।’’
অজয় আরও জানান, এই প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া এ রাজ্যে নবম শ্রেণি এবং তারও উঁচু ক্লাসের প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য একটি সহানুভূতি বৃত্তি চালু আছে। তার বাইরে প্রতিবন্ধীরা কিছুই পান না। এ ছাড়াও, তাঁদের অভিযোগ, ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী যে ভাতা পান, ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধীও একই ভাতা পান। অথচ অনেক রাজ্যে ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের যে ভাতা, তার থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধীর ভাতা কিছুটা বেশি। কারণ, জীবনধারণে অসুবিধার কথা বিচার করা হয় এ ক্ষেত্রে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গেও কেন সেটা করা হবে না?
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাজেটে প্রতিবন্ধীদেরভাতা না বাড়ায় আমরা রীতিমতো হতাশ। প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে আমরা এ বারের বাজেটের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি।’’ কান্তিরঅভিযোগ, এ রাজ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই আবার প্রতিবন্ধীর শংসাপত্র ও পরিচয়পত্র নেই। ফলে তাঁরা কোনও রকম সুযোগ-সুবিধাই পান না।কান্তি বলেন, “প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আমরা কিছু দিনের মধ্যেই আরও বড় আন্দোলনেনামব।”
এই বিষয়ে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। ওই দফতরের এক কর্তা অবশ্য বলেন, “ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টা অর্থ দফতর ঠিক করে। প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে কোনও দাবি এসেছে কিনা, দেখতে হবে। সরকারের কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা, সেটাও জেনে বলতে হবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে