দুধ খেতে গেলেও গলায় আটকে যেত। শ্বাসকষ্টেও ভুগত একরত্তি শিশু। থমকে ছিল বৃদ্ধি। ডাক্তার দেখিয়ে দেখা গেল, তার নাড়ির গতি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় অর্ধেক। ইসিজি-তে ধরা পড়ল, বসিরহাটের দু’বছরের বর্ষা মণ্ডল জন্ম থেকেই ‘কমপ্লিট হার্ট ব্লক’-এর শিকার। একমাত্র রাস্তা পেসমেকার। এত কম বয়সে পেসমেকার বসানোর ঝুঁকিও কম না। তবে পেসমেকারের ভরসাতেই বর্ষা আপাতত নতুন জীবন পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জন্মগত হার্ট ব্লকের কখনও কিছু উপসর্গ থাকে, কখনও কিছু বোঝা যায় না। ফলে রোগ যখন ধরা পড়ে, তখন কিছু করার থাকে না।
রুবি জেনারেল হাসপাতালের হৃদ্রোগ চিকিৎসক উত্তম সাহা বর্ষার অস্ত্রোপচারটি করেছেন। তিনি জানান, পেসমেকার বসানোর পরে বর্ষার নাড়ির গতি অনেক স্বাভাবিক। বাকি জীবন তাকে পেসমেকারের ভরসাতেই থাকতে হবে। উত্তমবাবু বলেন, ‘‘শিশুটির উচ্চতা এবং ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেসমেকার বদলাতে হবে। প্রতি ১০-১২ বছর অন্তর তা বদলানো দরকার।’’
হৃদ্রোগ চিকিৎসক বিশ্বকেশ মজুমদার জানান, এত ছোট শিশুর পেসমেকার বসানো বিরল। শিশুটি যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে, সেখানেই চিকিৎসকদের সাফল্য।