—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। মোবাইল-সহ ধরা পড়লে পরীক্ষার্থীদের সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে যেখানে এত কড়াকড়ি, সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পর্ষদ ও সংসদ দ্বারা নিযুক্ত পরিদর্শকেরা পরীক্ষা কেন্দ্রে এলে তাঁদের ছবিমোবাইলে তুলে সমাজমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। যেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরে ফোনের ব্যবহারই নিষিদ্ধ, সেখানে নিয়ম ভেঙে পরিদর্শকদের ছবি কেন তোলা হবে এবং তা সমাজমাধ্যমে কেন দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, এর ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের সুরক্ষা কি ব্যাহত হচ্ছে না?
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ সংক্রান্ত নির্দেশাবলীতে বলা ছিল, বিদ্যালয়ের কর্মচারী বা পর্যবেক্ষকেরাও পরীক্ষা কক্ষে মোবাইল বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করতে পারবেন না। কেবলমাত্র সেন্টার সেক্রেটারি অর্থাৎ পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, ভেনু সুপারভাইজ়ার ও অতিরিক্ত ভেনু সুপারভাইজ়ার পর্ষদ বা জেলা কনভেনরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য দিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ সালের পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে লেখা ছিল, পরীক্ষা কেন্দ্রের সেন্টার ইন-চার্জ, সেন্টার সেক্রেটারি, ভেনু সুপারভাইজ়ার ও কাউন্সিল নমিনি পরীক্ষা পরিচালনার স্বার্থে পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে যদি কোনও পদাধিকারী পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করতে আসেন, তা হলে তিনি তাঁর ফোন ভেনু সুপারভাইজ়ারের কাছে জমা রাখবেন।
শিক্ষকদের একাংশই প্রশ্ন তুলছেন, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে আসছেন যাঁরা, তাঁরাই এগুলোর কোনওটা মানছেন কি? সম্প্রতিসমাজমাধ্যমে কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শনে সেখানকার ছবিই শুধু নয়, পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি, তাঁদের ফুলের স্তবক দেওয়ার ছবি, প্রধান শিক্ষকের ঘরে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার ছবিও সমাজমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন যাঁদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়, তাঁরাই তো মোবাইলের অপব্যহার করছেন বলে দেখা যাচ্ছে। শুধু ছবি তোলাই নয়, তা সমাজমাধ্যমে পোস্টও করছেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ তো জানিয়েছে, পরিদর্শকেরা ভেনু সুপারভাইজ়ারের কাছে ফোন জমা রাখবেন। কিন্তু ফোন কেউ জমা রাখছেন বলে শুনিনি। এর ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের সুরক্ষাব্যাহত হচ্ছে।’’
যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের দাবি, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরে যেখানেপরীক্ষা চলছে, সেখানকার কোনও ছবি তোলা হয়নি। এরকম কোনও ছবি ওঠার অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হবে। যদিও শিক্ষকদের একাংশের মতে, যেখানে পুরোপরীক্ষা কেন্দ্রেই ছবি তোলা নিষিদ্ধ, সেখানে স্কুল চত্বরের কোনও জায়গাতেই বা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা হবে কেন?
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে