বেহাল: পচা ফুল ও বর্জ্য জমেছে মল্লিকঘাট ফুলবাজারে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে পরিচালন সমিতি ভেঙে গিয়েছে। সমিতির কার্যালয় তালাবন্ধ। দৈনন্দিন খরচের টাকাপয়সাও বন্ধ থাকা সেই কার্যালয়ের ভিতরে আলমারিবন্দি। টাকা দিতে না পারায় সাফাইকর্মীরাও কাজে আসছেন না। গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে ফুলের বাজার আবর্জনায় ভরে রয়েছে। রাজনৈতিক ডামাডোলে হাওড়ার মল্লিকঘাট ফুলবাজার যেন নরক। সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দরবার করছেন ফুল চাষিরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতির বদল হয়নি।
ফুল চাষিরা জানাচ্ছেন, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে ৬ মে আচমকাই বহিরাগত কিছু লোকজন শাসকদলের পতাকা নিয়ে, গায়ে আবির মেখে মল্লিকঘাট ফুল বাজারে ঢুকে পড়ে। বাজারের পরিচালন সমিতির কার্যালয়ের দখল নিয়ে তারা সেখানে তালা লাগিয়ে দেয়। তার পরে কয়েক দিন ধরে চাষি ও বিক্রেতাদের থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে বাজার পরিষ্কার করাচ্ছিল তারা।
ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন বাজারে ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষের জমায়েত হয়। সকলের কাছ থেকে ২০ টাকা করে তুলে সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ ওই বহিরাগতেরা স্রেফ আত্মসাৎ করছিল। ‘সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতি’র সম্পাদক নারায়ণ নায়েক জানালেন, সাফাইয়ের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীরা ওই বহিরাগতদের বাধা দেন। আমরা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ বাজারে এসে পরিচালন সমিতির অফিসে বহিরাগতদের ঝোলানো তালা খুলে দিয়ে নিজেরা তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে গিয়েছে। এর পর থেকে বাজারে জঞ্জাল সাফাই বন্ধ। গত দশ দিন ধরে বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’
সমস্যার সমাধানে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং হর্টিকালচার দফতরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ফুল চাষিরা। তাঁরা জানান, বাজারে সাফাইকর্মীরা আসছেন না। দোকানদারেরা নিজেদের দায়িত্বে জঞ্জাল বাইরের ভ্যাটে ফেলে আসছেন। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীরা যেখানে বসে ফুল বিক্রি করেন, সেই জায়গায় ফুল-পাতা-সহ সব ধরনের জঞ্জাল পচে স্তূপ হয়ে জমে রয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাঁরা জানান, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার নেতৃত্বে আগে বাজারের পরিচালন সমিতি চলত। কিন্তু রাজ্যে নতুন সরকার পূর্বতন সব সরকারি কমিটি ভেঙে দিতে বলেছে। ফলে, মল্লিকঘাট বাজারও অভিভাবকহীন। ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ অ্যাপে বৃহস্পতিবার পুনরায় অভিযোগ জানিয়েছেন মল্লিকঘাটের ব্যবসায়ীরা।
হাওড়া সেতুর নীচে ওই ফুল বাজার প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। বেলা পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। বিপুল পরিমাণ ফুল বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন ভাল পরিমাণ ফুল শুধুমাত্র বাজারে পড়ে থেকে নষ্ট হয়। কারণ, ফুল চাষিদের জন্য হিমঘরের সুবিধা তেমন ভাবে নেই। ফুল তাঁরা বাজারের পাশে গঙ্গায় ফেলে দিয়ে যান। যে কারণে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে বাজার সাফাইয়ের প্রয়োজন হয়। চাষিরা জানান, পরিচালন সমিতির কার্যালয় বন্ধ থাকায় গোটা বিষয়টি জট পাকিয়ে রয়েছে। টাকার জোগান না থাকায় বাজার পরিচালনার কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে চাষিরা জানান।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে