Dengue Pathological Autopsy

ডেঙ্গিতে মৃত্যুর প্রকৃতি বুঝতে প্যাথলজিক্যাল অটপ্সির পরিকল্পনা

বিগত দিনে রাজ্যে বহু ক্ষেত্রে ডেঙ্গি আক্রান্ত কারও মৃত্যু হলেও সেটিকে সরকারি ভাবে সরাসরি ডেঙ্গির কারণে মৃত্যু বলে স্বীকার করা হয়নি। তাতেই ডেঙ্গিতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে দ্বিমত ও বিতর্ক রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:৩৮
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ডেঙ্গিতে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হলে তার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ এবং রোগের জটিলতা সম্পর্কে জানতে মৃতদেহের ‘প্যাথলজিক্যাল অটপ্সি’ করার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। এর আগে কোভিডের সময়ে রাজ্যে দু’-একটি মৃতদেহের প্যাথলজিক্যাল অটপ্সি হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও মূল লক্ষ্য ছিল, করোনাভাইরাস শরীরের কোন অঙ্গের কতটা ক্ষতি কী ভাবে করছে, যে কারণে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করা।

বিগত দিনে রাজ্যে বহু ক্ষেত্রে ডেঙ্গি আক্রান্ত কারও মৃত্যু হলেও সেটিকে সরকারি ভাবে সরাসরি ডেঙ্গির কারণে মৃত্যু বলে স্বীকার করা হয়নি। তাতেই ডেঙ্গিতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে দ্বিমত ও বিতর্ক রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্যাথলজিক্যাল অটপ্সি চালু করা গেলে সমস্ত বিতর্ক দূর করা সম্ভব এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত উপযোগী হবে বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

স্বাস্থ্য ভবনের অন্দরের খবর, এ হেন ভাবনাটি উপস্থাপন করেছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘শুধু ডেঙ্গিতে মৃত্যু চিহ্নিত করলেই হবে না। বরং, কোন প্যাথলজিক্যাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই মৃত্যু ঘটল, সেটা জানাও ভীষণ জরুরি। তাতে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।’’

বুধবার মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ নিয়ে স্বাস্থ্য এবং সাধারণ প্রশাসন, পুর ও পঞ্চায়েত দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যার রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে নিয়মিত পাঠাতে হবে। বৈঠকের পরে শারদ্বত বলেন, ‘‘সমস্ত তথ্য নিয়ম মেনে কেন্দ্রকে জানানো হবে। তাতে তথ্য গোপনের অভিযোগের অবসান ঘটবে।’’

সূত্রের খবর, ডেঙ্গি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতার উপরে বেশি করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে স্কুলপড়ুয়াদের সচেতনতা অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুলে চলবে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি।

সেখানে ডেঙ্গির উপসর্গ, মশার বংশবিস্তার রোধ এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘সরকারের কথা অনেক সময়ে অনেকে না-ও শুনতে পারেন। কিন্তু নিজের সন্তানের সতর্কবার্তা শুনে অভিভাবকেরা নিশ্চয়ই সচেতন হবেন।’’

অন্য দিকে, প্যাথলজিক্যাল অটপ্সি কোনও আইনি পদক্ষেপের জন্য ময়না তদন্ত নয়, বরং সেটি রোগের প্রকৃতি বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা— এই বিষয়টি রোগীর পরিবারকে স্পষ্ট করে বোঝাতে হবে বলেও জানিয়েছেন শারদ্বত। আগামী ২৯ জুন দিল্লিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বৈঠকে এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডার সামনেও সুযোগ পেলে জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশের অন্য কোথাও এখনও প্যাথলজিক্যাল অটপ্সি চালু নেই। তাই এটি বাস্তবায়নে একটি নির্দিষ্ট কার্যবিধি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর) তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন