—প্রতীকী চিত্র।
প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ করেছিলেন এক প্রৌঢ়। যার জেরে তাঁর উপরে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরে এক সপ্তাহ কেটে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি, অভিযুক্তেরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার থানার সামনে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ঘটেছে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার বলরাম দে স্ট্রিটে। অভিযোগকারী প্রৌঢ়ের নাম স্বপন দে। ৬৪ বছরের ওই প্রৌঢ় সেখানকারই বাসিন্দা। থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন,ঘটনার সূত্রপাত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ। স্বপন জানিয়েছেন, পাড়ার মোড়ে প্রকাশ্যেই চারজনকে মদ্যপান করতে দেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে সেইমদ্যপানের আসর চলতে থাকায় তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ করেন।অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই ওই মত্ত যুবকেরা তাঁর উপরে চড়াও হয়। মাটিতে ফেলে স্বপনকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেঅভিযোগ। কিল, চড়, ঘুষিতে তাঁর কপাল ফেটে যায়। আঘাত লাগে শরীরের অন্যান্য অংশেও। তাঁকে মার খেতে দেখে স্থানীয় আর এক প্রৌঢ় সেখানে ছুটে আসেন। অভিযুক্তেরা তাঁকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। এর পরে পাড়ার মধ্যে দু’জন প্রৌঢ়কে রক্তাক্ত অবস্থায়দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে যান। তাঁরা প্রতিবাদকরলে অভিযুক্তেরা বাইক নিয়ে চম্পট দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্রান্ত দুই প্রৌঢ়কে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। স্বপনের কথায়,‘‘পাড়ার ভিতরে যে জায়গায় বসে মদ্যপান করা হচ্ছিল, সেখানে প্রতিদিন আমরা বয়স্কেরা আড্ডা দিই। পাশেই পাড়ার রাস্তা। লোকজন সেখান দিয়ে সব সময়ে যাতায়াত করেন। লোকালয়ের ভিতরে ওই ভাবে মদ্যপানের প্রতিবাদ করেছিলাম। সে কথা শুনে সরে না গিয়ে উল্টে ওরা মারতে শুরু করল।’’
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনই গিরিশ পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্বপন। কিন্তু পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি, থানায় অভিযোগজানানোয় আক্রান্তদের নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তেরা। এরই প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় গিরিশ পার্ক থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে