—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
গোলপার্কে অশান্তির ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩। তবে ‘মূল অভিযুক্ত’ বলে স্থানীয়দের দাবি করা বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। কেন তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়েরা।
শনিবার সন্ধ্যায় সৌগত বসু, মিন্টু ভঞ্জ এবং প্রবীর প্রামাণিক নামে তিন যুবককে গ্রেফতার করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে সৌগত এবং মিন্টুর বাড়ি কসবা থানা এলাকায়। প্রবীরের বাড়ি রবীন্দ্র সরোবরে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে গন্ডগোলের ঘটনায় তিন জন যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কলকাতায় রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কে কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই গোলমালের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়ায় বার বার উঠে এসেছে পাপ্পুর দলবলের নাম। সোনা পাপ্পুর দলবলই এলাকায় এসে গন্ডগোল পাকিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। রবিবার রাতের গন্ডগোলে রবীন্দ্র সরোবর থানায় বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলমাল বেধেছিল সোনা পাপ্পুর দলবলের। ওই দিন রাতে ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো এবং বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। হামলা করা হয় ধারালো অস্ত্র নিয়েও। গোলমালের ঘটনায় প্রথম থেকেই সোনা পাপ্পুর নাম উঠে এসেছে।
যদিও সোনা পাপ্পু নিজে দাবি করেছেন, ওই দিনের গোলমালের ঘটনায় তিনি ছিলেন না! মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভ করেন পাপ্পু। তিনি দাবি করেন, রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। তাঁর কথায়, ‘‘রবিবার আমার বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল। সকাল থেকে পুজোয় বসেছিলাম উপোস করে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুজোয় ছিলাম। আমার বাড়ির ক্যামেরায় (সিসি) আমাকে দেখা গিয়েছে। আমার স্ত্রী লাইভ করছিলেন। সকলে দেখেছেন। সশরীরে বাড়ির পুজোয় থাকলে ঝামেলায় কী ভাবে যাব?’’ যদিও ওই দিনের ঘটনায় পাপ্পু জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পুলিশ পেয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।