অধিকার চেয়ে পথে কুড়ানিরা

রুকসানা, সাহানারা, কাদামণি। ওঁদের নেই কোনও ভোটার বা আধার কার্ড। নেই বিপিএল তালিকায় নাম। কোনও শংসাপত্রও নেই। এক ‘নেই রাজ্যের’ বাসিন্দা ওঁরা।

Advertisement

দেবাশিস দাস

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:০২
Share:

মিছিলে আর্জি। বুধবার, ধর্মতলায়। ছবি: সুদীপ আচার্য

রুকসানা, সাহানারা, কাদামণি।

Advertisement

ওঁদের নেই কোনও ভোটার বা আধার কার্ড। নেই বিপিএল তালিকায় নাম। কোনও শংসাপত্রও নেই। এক ‘নেই রাজ্যের’ বাসিন্দা ওঁরা। কেউ থাকেন খালপাড়ে, কেউ সেতু বা উড়ালপুলের নীচে, কেউ আবার ফুটপাথে। দিনে-রাতে শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কাগজ কুড়ানোই জীবিকা ওঁদের।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং নিজেদের কাজের স্বীকৃতির দাবিতে বুধবার এন্টালির রামলীলা ময়দান থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত মিছিল করেন এমনই হাজার দুয়েক কাগজ কুড়ানি। তিলজলা শেড নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় ‘দি অ্যাসোসিয়েশন অব র‌্যাগ পিকার্স অব ক্যালকাটা’ নামে সংগঠনও গড়েছেন তাঁরা।

Advertisement

এগারো বছরের রুকসানা খাতুন থাকে রাজাবাজারের খালপাড়ে। রোজ বেলা ১২টা থেকে রাত ১১টা, কাঁধে বস্তা নিয়ে রাস্তায় ঘোরে সে। তার কথায়, ‘‘কোনওদিন আয় হয় ১০০-১৫০ টাকা, কোনও দিন সেটুকুও নয়।’’ বছর চল্লিশের সাহানারা থাকেন পার্ক সার্কাসে রেল লাইনের পাশে। তিনি বলেন, ‘‘আধার বা ভোটার
কার্ড না থাকায় সরকারি সাহায্য
মেলে না।’’

এ দিন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয় কাগজ কুড়ানিদের ওই সংগঠনের তরফে। সংগঠনের সম্পাদক মনোয়ারা বিবি বলেন, ‘‘সরকারের কাছে আমাদের একটাই আর্জি, বাঁচার জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাগুলি দিন।’’ রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, কাগজ কুড়ানিদের সমস্যা নিয়ে তাঁর দফতরের কাছে কেউ আবেদন করেননি। তিনি বলেন, ‘‘ওঁদের তরফে কোনও আর্জি জানানো হলে অবশ্যই ভেবে দেখব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement