ছবি : সূমন বল্লভ
আশঙ্কা ছিলই। এবং তা সত্যি হল।
কাজের দিনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শ্যামবাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পদযাত্রায় মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ কার্যত অবরুদ্ধ রইল শহরের মধ্য, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ। মধ্য কলকাতার একদিকের রাস্তা খোলা রেখে অন্য রাস্তা দিয়ে মিছিল যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিছিলের আকস্মিক গতিপথ পরিবর্তনে হঠাৎ দু’টি রাস্তাই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। হয়রানির শিকার হন নাগরিকেরা।
এ দিন দুপুরে মিছিল শুরু হয় শ্যামবাজার থেকে। বিধান সরণি হয়ে পৌঁছনোর কথা ছিল ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে। সেই মতো মিছিল শুরুও হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে মিছিলের মুখ বদল হওয়ায় যানজট ব্যাপক চেহারা নেয়। সেই সঙ্গে মিছিলের মুখ হঠাৎ করে বদল হওয়ায় নাকাল হতে হয় পুলিশকেও। নিয়মমতো মিছিল শ্যামবাজার থেকে ওয়েলিংটন হয়ে এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু শেষমেশ মিছিল ওয়েলিংটন থেকে লেনিন সরণি হয়ে চলতে থাকায় যানজট আরও তীব্র চেহারা নেয়। মিছিলের জেরে শ্যামবাজার, বিধান সরণি, বিডন স্ট্রিট, বিবেকানন্দ রোড, কলেজ স্ট্রিট, মহাত্মা গাঁধী রোড, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, পার্ক স্ট্রিট, রেড রোড প্রমুখ রাস্তায় দীর্ঘ ক্ষণ গাড়ি চলাচল থমকে যায়। মিছিলের জেরে নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। মিছিলের জেরে এপিসি রোড, এজেসি বসু রোড, মৌলালি মোড়, শিয়ালদহ এলাকাও যানজটের শিকার হয়। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিলে ফলে প্রায় আধ ঘণ্টা ধর্মতলা চত্বর আটকে থাকে। এর প্রভাব পড়ে জওহরলাল নেহরু রোডেও।
ওয়েলিংটন মোড়ে এসে কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ে মিছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ওখান থেকে মিছিল প্রায় পনেরো মিনিট পর লেনিন সরণি হয়ে হাঁটতে থাকে। লালবাজার সূত্রে খবর, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুয়ায়ী, এস এন ব্যানার্জি রোড দিয়ে মিছিল যাওয়ার কথা ছিল। সেই মত এই রাস্তা দুপুর সওয়া দুটো নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধর্মতলা এবং এসপ্লানেড ইস্ট রোড ধরে মৌলালি যাওয়ার জন্য লেনিন সরণি খোলা রাখা হয়েছিল। নিয়মমতো এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি এবং বাস যাচ্ছিল। কিন্তু মিছিল ওয়েলিংটন মোড়ে ঘুরতেই লেনিন সরণিতে সার দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। মধ্য কলকাতার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুলিশকে মিছিলের অভিমুখ পাল্টাতে হিমশিম খেতে হয়।
এ দিন মিছিল শেষ হওয়ার সময় ধর্মতলা মোড়ের চার দিক দীর্ঘ ক্ষণ বন্ধ রাখা হয়। লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, পার্ক স্ট্রিট থেকে হাওড়ামুখী গাড়ি ময়দান, রেড রোড, রাজভবনের পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ডোরিনা ক্রসিংয়ে আটকে থাকায় শহরের দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী গাড়ি পার্ক স্ট্রিটে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে থাকে। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল শেষ হলেও এস এন ব্যানার্জি রোডে গাড়ি অনেক ক্ষণ আটকে থাকে।
এ দিন বেলা ১২টার আগে থেকেই শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কর্মীরা বাসে চেপে শ্যামবাজারে পৌঁছন। এর আঁচ পড়ে বিটি রোডেও। এমনিতেই সাঁত্রাগাছি ব্রিজ বন্ধ থাকায় ডানলপে বর্তমানে গাড়ির চাপ বেশি। এ দিন দোসর মিছিলের ফলে গাড়ির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ফলে, বি টি রোডে যানজট পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে ওঠে। ডানলপের বাসিন্দা সুমন্ত ঘোষ নামে এক বৃদ্ধ শ্যামবাজারে ডাক্তারের কাছে আসছিলেন। ঘণ্টাখানেক পরে বাস থেকে গলদঘর্ম হয়ে নেমে পড়েন তিনি।
দুপুর ১২টা থেকে ডানলপ মোড় থেকে শ্যামবাজার আসতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এ দিন ভূপেন বসু অ্যাভিনিউ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ হয়ে ভূপেন বসু অ্যাভিনিউ দিয়ে বি টি রোড অভিমুখের সমস্ত বাস ও গাড়ি বাগবাজার স্ট্রিট দিয়ে বার করে দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়, যখন তৃণমূলকর্মী বোঝাই কয়েকটি বাস বাগবাজার স্ট্রিট দিয়ে বেরিয়ে বি টি রোডের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে সোজা চলে আসে শ্যামবাজারের দিকে। এই সময় শ্যামবাজার পাঁচমাথা মোড়ের কাছে বি টি রোডগামী সমস্ত বাস বা গাড়ির যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে তৃণমূলকর্মীদের বাস দাঁড়িয়ে থাকায় প্রবল যানজট তৈরি হয়।
অন্য দিকে, আরজিকর রোড হয়ে শ্যামবাজার থেকে ভূপেন বসু রোড হয়ে যে গাড়িগুলি চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ যাবে সেগুলি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড হয়ে ঘোরানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই বিধান সরণি বন্ধ হয়ে যায়। শ্যামবাজারে বিধান সরণির মুখে তৃণমূলকর্মীদের বাস দাঁড় করিয়ে তাঁদের নামানো হয়।