‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু শমসেরগঞ্জের বৃদ্ধের। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শুনানির জন্য ডাক পড়়েছিল পরিবারের সদস্যদের। একই দিনেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম পুটু শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে। পরিবারের দাবি, এসআইআর-এর ‘চাপেই’ মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এমন বিস্তর অভিযোগ উঠে এসেছে। এ বার সেই তালিকায় জুড়ল শমসেরগঞ্জের রামেশ্বরপুর চাচণ্ড গ্রামের এই ঘটনাও।
জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি ওই বৃদ্ধের বাড়িতে এসআইআর-এর শুনানির জন্য নোটিস এসেছিল। বৃদ্ধের পাশাপাশি তাঁর পুত্র এবং পুত্রবধূর নামেও শুনানির নোটিস আসে। পরিবারের অভিযোগ, শুনানির নোটিস এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন পুটু। এমনকি, নোটিসে বৃদ্ধের নামের বানানেও ত্রুটি ছিল বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের বক্তব্য, বৃদ্ধের নামের জায়গায় ‘পুটু’র বদলে ‘পুট’ লেখা ছিল। তা নিয়েও তিনি মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন বলে দাবি এলাকাবাসীদের।
বৃহস্পতিবারই পুটুর পরিবারের সদস্যদের শুনানির জন্য ডাক পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ঘটনার সময়ে বাড়িতে একাই ছিলেন বৃদ্ধ। পরিবারের অন্য সদস্যেরা গিয়েছিলেন শমসেরগঞ্জে বিডিও অফিসে শুনানির হাজিরায়। ওই শুনানি চলাকালীনই পরিবারের সদস্যেরা খবর পান, বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বৃদ্ধ। বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাঁর মৃত্যুর খবরও পেয়ে যান পরিবারের সদস্যেরা। বিডিও অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মৃতের পুত্রবধূ বিউটি খাতুন বলেন, “এসআইআর-এর চাপে মারা গেল। আমরা (নথি) জমা দিতে এসেছিলাম। এসে শুনলাম সে মারা গিয়েছে।”
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের কান্দিতে বিডিও অফিসে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ৮১ বছরের এক প্রবীণা। যুগলদাসী কাপাসিয়া নামে ওই বৃদ্ধাকে ভর্তি করানো হয় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। এ বার সেই মুর্শিদাবাদেই এক বৃদ্ধ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।