—প্রতীকী চিত্র।
শহরে মেট্রোপথের প্রসার ঘটলেও স্টেশন পরিচালনা থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর জন্য যথেষ্ট কর্মী মিলছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু মেট্রো স্টেশনে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীরা ‘লাগেজ স্ক্যানার’-এর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এ বার এক ধাপ এগিয়ে টিকিট বুকিং কাউন্টার চালানোর দায়িত্বও বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে তৎপর হয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর চারটি স্টেশন— সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং ফুলবাগানে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে সম্প্রতি মেট্রোর পক্ষ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
শহরে মেট্রোপথের সম্প্রসারণের সঙ্গে নতুন স্টেশনের সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত কর্মী না পাওয়ার অভিযোগ বহু দিনের। সাবেক উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর জন্য যত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, তার তুলনায় মেট্রোপথের দৈর্ঘ্য এখন অনেক বেড়েছে। গত ১২ বছরে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রোপথ যুক্ত হয়েছে। চালু হয়েছে ৩৩টি নতুন স্টেশন। কিন্তু, ওই সব স্টেশন পরিচালনার জন্য ট্র্যাফিক বিভাগে নতুন পদ তৈরি কিংবা কর্মী নিয়োগ, কোনওটিই ঘটেনি। বদলে, উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর কর্মীদের ভাগ করে বিভিন্ন স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ স্টেশনেই শিফট-পিছু কর্মীর সংখ্যা গড়ে মাত্র চার থেকে পাঁচ জন বলেঅভিযোগ মেট্রোর বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের।
কলকাতা মেট্রোয় ট্র্যাফিক বিভাগের কর্মীদেরই স্টেশন এবং বুকিং কাউন্টার সামলাতে হয়। টিকিট বিক্রি, স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করার জন্য বাণিজ্য বিভাগের আলাদা কর্মী নেই। কর্মীর এ হেন আকালের কারণে নিউ গড়িয়া-বেলেঘাটা মেট্রো এবং জোকা-মাঝেরহাট মেট্রোর একাধিক স্টেশনে বুকিং কাউন্টার তুলে দিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ওই সব স্টেশনে যাত্রীদের স্মার্ট কার্ড অথবা স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিনের উপরে নির্ভর করতে হয়। অনেক নতুন যাত্রী এই ব্যবস্থায় সড়গড় নন।
মেট্রো সূত্রের খবর, উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর কর্মীদের অনেকেই অবসর নিতে শুরু করেছেন। তাঁদের জায়গায় রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড থেকে চাহিদার তুলনায় কম কর্মী মিলছে। এ দিকে, নতুন স্টেশনগুলিতে কাজ সামলানোর জন্য নতুন পদ তৈরি করা হচ্ছে না। এমন অবস্থায় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো পরিচালনার ভার দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের হাতে তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক ভাবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দেখালেও পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর বর্তমান যাত্রী সংখ্যা, ভাড়ার কাঠামো-সহ একাধিক বিষয় তাঁদের কাছে লাভজনক মনে হয়নি বলে সূত্রের খবর। ফলে, ওই তৎপরতা আর এগোয়নি।
মেট্রোয় অভাব রয়েছে রেল রক্ষী বাহিনীর কর্মীরও। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর বেশ কিছু স্টেশনে মাঝেমধ্যে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীদের ভিড় সামলানোর কাজও করতে হচ্ছে। মেট্রো সূত্রের খবর, ওই সব সমস্যার কথা মাথায় রেখেই সম্প্রতি বুকিং কাউন্টার সামলানোর কাজ বেসরকারি সংস্থার হাতে দিতে তৎপরহয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কমিশনের ভিত্তিতে টিকিট বুকিং এজেন্ট নিয়োগ করার কথা মেট্রোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা মেট্রোর প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘মেট্রোপথের সম্প্রসারণ হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কর্মী নিয়োগ করাও জরুরি। সেই উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’’
পরিষেবার বিভিন্ন অংশ বেসরকারি হাতে গেলে তা মেট্রো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের রাশ আলগা করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। পাশাপাশি, অনেকে এ-ও মনে করছেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে মেট্রোয় কর্ম সংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। মেট্রোর আধিকারিকেরা অবশ্য এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে