আহত আরসালান আহমেদ খান।—নিজস্ব চিত্র
গাড়ির ধাক্কায় জখম হল এক স্কুলছাত্র। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে খিদিরপুরে সেন্ট টমাস স্কুলের সামনে। ওই ছাত্রের নাম আরসালান আহমেদ খান। তার মুখে, হাতে ও ঘা়ড়ে চোট লেগেছে। ভেঙে গিয়েছে কয়েকটি দাঁতও। ছাত্রটিকে একবালপুরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ স্কুলে যাওয়ার পথে কাকা তৌকির আহমেদের হাত ধরে ডায়মন্ড হারবার রোড পার হচ্ছিল আরসালান। তখনই গাড়িটি এসে তাকে ধাক্কা মারে। এলাকাবাসীর থেকে পুলিশ জেনেছে, ‘পুলিশ’ স্টিকার লাগানো ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সেন্ট টমাস স্কুলেরই শিক্ষিকা জয়সূর্যা দাশগুপ্ত। পিছনের আসনে ছিলেন তাঁর স্বামী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি কলকাতা পুলিশের এক জন গোয়েন্দা।
এ দিকে, সাতসকালে ওই দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় লোকজন। আসে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশও। ঘটনাস্থলে চলে আসেন ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল জন অজিতকুমার ঘোষ। স্বপনবাবু এবং জয়সূর্যাদেবীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরে ওয়াটগঞ্জ থানায় এসে আরসালানের বাবা তৌফিক খান এবং অন্য এক কাকা শাহেনশা খান অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে জামিনযোগ্য ধারায় পুলিশ ওই শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে। পরে থানা থেকে তিনি জামিন পান।
পুলিশ সূত্রে খবর, জয়সূর্যাদেবীর স্বামী স্বপনবাবু এক সময়ে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগে স্পেশ্যাল সেলে কাজ করেছেন। পরে অতিরিক্ত নগরপাল হিসেবে ডিসি (ট্র্যাফিক)-এর দায়িত্বও সামলেছেন। বছর দু’য়েক আগে অবসর নেওয়ার পরে মাস ছয়েক আগে ফের তাঁকে ‘অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি’ (ওএসডি) পদে লালবাজারে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে স্বপনবাবু আর্থিক তছরূপ বা প্রতারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা দেখাশোনা করেন।
তবে এ দিনের দুর্ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেও অনেকাংশে দায়ী করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। আকিল আহমেদ নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘প্রায় হাজার দশেক ছাত্রছাত্রীর একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় যানজট এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহু গুণ বে়ড়ে যায়।’’ আকিলের আরও অভিযোগ, স্কুলের ভিতরে বিশাল জায়গা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গাড়ি ডায়মন্ড হারবার রোডের উপরেই রাখা থাকে। ফলে সেই রাস্তা সরু হয়ে যায়। বাড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা।
অভিভাবকদের এই অভিযোগ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ দিন যোগাযোগ করা হলে স্কুলের ফোন বেজে যায়। প্রিন্সিপালকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এসএমএস পাঠালেও উত্তর মেলেনি।