Lionel Messi in Kolkata

মেসি-কাণ্ডে পুলিশ রিপোর্টে নাম নেই প্রভাবশালীদের

শতদ্রু প্রায় ২১ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন এবং তাঁর দোষেই দর্শকেরা মেসি-দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। এর পরে ১৪ দিনের জন‍্য পুলিশি হেফাজতে শতদ্রু অসংলগ্ন কথায় তদন্তকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

ঘটনার দিন যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসি এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।

যত দোষ, সবই কি শতদ্রু দত্তের? গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ময়না তদন্তে আর কোনও প্রভাবশালী বা পুলিশকর্তার নাম উঠে এল না। মেসি-কাণ্ডের দিন পনেরো বাদে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছেস্থানীয় পুলিশ।

শতদ্রু প্রায় ২১ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন এবং তাঁর দোষেই দর্শকেরা মেসি-দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। এর পরে ১৪ দিনের জন‍্য পুলিশি হেফাজতে শতদ্রু অসংলগ্ন কথায় তদন্তকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তদন্তে আর কার কার বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁরা কী বলেছেন, তা তদন্ত রিপোর্টে আদালতে জানায়নি পুলিশ।

সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসি ঢোকা মাত্র সে-দিন কার্যত ছায়াসঙ্গীর মতো রাজ‍্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছিলেন। সেই সঙ্গে রাজ‍্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রভাবশালীদের পরিবারের লোকজনই প্রধানত মেসির অন্তরঙ্গ বলয়ে থাকার ছাড়পত্র পান বলে নানা ছবিতে উঠে এসেছে। কিন্তু প্রাথমিক পুলিশি রিপোর্টে মেসি-বিভ্রাটের কারণ খুঁজতে এই দিকগুলি সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রভাবশালীরা মেসিকে মাঠে ঘিরে রাখার কিছু ক্ষণের মধ‍্যেই মেসি মাঠ ছেড়ে যান। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটে মাঠ-ভরা দর্শকের কপালে সামান্য দর্শনও জোটেনি। যার পরিণতিতে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর-সহ ঘোর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় দায়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করে বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আদালতে পেশ করা প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টেও শতদ্রু ছাড়া আর কেউ এই অব‍্যবস্থার জন্য দায়ী বলে সিদ্ধান্তে আসতেপারেনি পুলিশ।

প্রধান আয়োজকের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার। স্টেডিয়ামের বাইরে এবং ভিতরে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে শতদ্রু খাবার ও জল সরবরাহের ব্যবস্থা করেন বলে নথি উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারী অফিসারের কথায়, ওই আয়োজকের বেসরকারি ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ২২ কোটি টাকা ছিল। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এক গৃহসহায়িকার উপস্থিতিতে শতদ্রুর বাড়ি থেকে তদন্তের জন‍্য দরকারি নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান মামলার তদন্তকারী অফিসার। তবে নথির খুঁটিনাটি রিপোর্টে বলা হয়নি। আইনজীবীদের একাংশের প্রশ্ন, তা হলে কি প্রভাবশালীদের আড়াল করতেই শুধুমাত্র শতদ্রুকে দায়ী করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিল পুলিশ? আরও প্রশ্ন, ওই দিনে মাঠে উপস্থিত ১৫০-২০০ জন প্রভাবশালী কোন মন্ত্রবলে মাঠে মেসির অত কাছে ঢোকার ছাড়পত্র পেলেন?

আইনজীবী মহলের অনেকেই মনে করছেন, মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার নাটের গুরু ওই প্রভাবশালীরা। কোনও রকম শৃঙ্খলা বা পরিকল্পনা ছাড়া ভরা মাঠে ওই প্রভাবশালীরা মেসির গা ঘেঁষে ছবি তোলার তাগিদে তাঁকে দর্শকদের সামনে আড়াল করেন। অথচ এই বিষয়টিই পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছে। ওই প্রভাবশালীরা অনেকে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনকি জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে কেউ কেউ অন‍্য রাজ‍্যে বসে আছেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তাঁদের নামের তালিকা পুলিশের হাতে থাকলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন