প্রতীকী ছবি।
অনলাইন টেলি শপিংয়ের আড়ালে একটি প্রতারণা-চক্রের হদিস মিলল বারাসতে। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেখে, রীতিমতো ইন্টারভিউ দিয়ে ওই চক্রে কাজ দেওয়া হয়েছিল ৩০ জন তরুণীকে। তাঁরাই পরে প্রতারিত হয়ে চক্রের এক মহিলা পাণ্ডাকে মঙ্গলবার পুলিশের হাতে তুলে দিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই চক্রের তরফে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে মহিলা কর্মী চাওয়া হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপনে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম ছিল না। দেওয়া ছিল কয়েকটি ফোন নম্বর। আরও বলা ছিল, মাসিক বেতন হবে প্রায় আট-দশ হাজার টাকা। চাকরিপ্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। বিজ্ঞাপন দেখে বারাসত, দত্তপুকুর ও সংলগ্ন এলাকার ৩০ জন তরুণী ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রতারিত মহিলারা জানিয়েছেন, গত ১৭ মে হৃদয়পুরে তাঁদের ইন্টারভিউ হয়। পরের দিন থেকে ডাকবাংলো মোড়ের কাছে শুরু হয় প্রশিক্ষণ। মহিলারা জানিয়েছেন, প্রথম কয়েক দিন তাঁদের শেখানো হয়েছিল কী ভাবে অনলাইনে ফোনের মাধ্যমে হনুমান চালিসা বিক্রি করতে হয়।
ওই চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, সোমবার চক্রের এক মহিলা তাঁদের কয়েকটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে, ওই নম্বরে ফোন করে ছেলেদের সঙ্গে ডেটিং করতে হবে। পরে তাদের ধরে আনতে হবে। তাদের থেকে মোটা টাকা হাতাবেন চক্রের সদস্যেরা। সেই টাকার ভাগ দেওয়া হবে চাকরিপ্রার্থী ওই মহিলাদের।
পুলিশ জেনেছে, মঙ্গলবার ওই চাকরিপ্রার্থীরা অফিসে গিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁরা আর কাজ করবেন না। তাঁদের নথিপত্র ফেরত দেওয়া হোক। এ নিয়ে দু’পক্ষে বচসা শুরু হয়। পরে মহিলারাই ফোন করে পুলিশকে ডেকে চক্রের এক পাণ্ডাকে তাদের হাতে তুলে দেন। ওই সব মোবাইল নম্বর বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।