স্মার্টফোনের ‘নেশা’র কবলে এ বার পাভলভ

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সেখানে থাকেন, তাই এমন সমস্যা ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। 

Advertisement

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৯ ০০:৫০
Share:

প্রতীকী ছবি।

অন্য অনেক হাসপাতালের মতোই স্মার্টফোেন কর্মীদের অতিরিক্ত মনোনিবেশ পরিষেবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে মানসিক হাসপাতাল পাভলভেও। যেহেতু মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সেখানে থাকেন, তাই এমন সমস্যা ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্তাদের।

Advertisement

অভিযোগ, পাভলভের নবনিযুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা সেখানে পরিষেবা দেওয়ার কাজ শিকেয় তুলে মগ্ন থাকছেন স্মার্টফোনে। পরিস্থিতি এমনই যে হাসপাতালে কী ভাবে কাজ করতে হবে সে সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ওই কর্মীদের দিতে চান কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যাল সুপার গণেশ প্রসাদের দাবি, ‘‘মনোরোগীদের সঙ্গে কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে তা না শিখলে তাঁদের যত্ন করা অসম্ভব। নতুন গ্রুপ ডি কর্মীদের বিষয়টা বোঝানো হবে।’’ মনোরোগীরা না-বুঝে কখনও খারাপ ব্যবহার করলেও চট করে মাথা গরম করতে নেই, বলে শেখাচ্ছেন পাভলভের চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, ২৫০ শয্যার পাভলভ হাসপাতালে সাড়ে ছ’শোরও বেশি আবাসিক রয়েছেন। পুরুষদের ওয়ার্ডে তাও হাসপাতালকর্মীরা রয়েছেন। কিন্তু মহিলা গ্রুপ ডি কর্মীর সংখ্যা বেশ কম। পুরনো কর্মীরা অনেকেই অবসর নিচ্ছেন। অনেক পদই ফাঁকা। পাভলভের সুপার জানিয়েছেন, মাস দুই হল ৩০ জন নতুন গ্রুপ ডি কর্মী পাভলভে নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁরা অনভিজ্ঞ। পাভলভের সাইকায়াট্রি বিভাগের প্রধান সৃজিত ঘোষের কথায়, ‘‘এ বার যে গ্রুপ ডি কর্মীরা এসেছেন, তাঁরা অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত। কিন্তু এখনও হাসপাতালের কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হচ্ছে।’’ হাসপাতাল সূত্রের খবর, এখন গ্রুপ ডি কর্মীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালের চারতলায় আলাদা ঘরে বসে সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন। হাতের স্মার্টফোনে বুঁদ থাকছেন। রোগীদের সঙ্গে পরিচয়ের ইচ্ছেও অনেকের নেই। কেউ কেউ ভবিষ্যতে উচ্চতর পদে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করছেন। ফলে মানসিক রোগীদের পরিচর্যাই ধাক্কা খাচ্ছে। পাভলভের জনৈক চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, ‘‘এমনও দেখা গিয়েছে, মনোরোগীরা ডাস্টবিন থেকে পরিত্যক্ত খাবার তুলে খাচ্ছেন দেখেও গ্রুপ ডি-কর্মীরা নির্বিকার।’’

Advertisement

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এমনিতে হাসপাতালের আবাসিকদের খেতে বা চুল বাঁধতে বা পরিচ্ছন্ন থাকতে সাহায্য করাও গ্রুপ ডি কর্মীদের কাজ। সেই কাজে খামতি থেকে যাচ্ছে বলে মানছেন হাসপাতালের কর্তারাই। শুধু তা-ই নয়, ওয়ার্ডের চাবি পর্যন্ত স্থিতিশীল পুরনো আবাসিকদের জিম্মায় রেখে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি নিয়ে সরব কয়েক জন আবাসিকের পরিজনও। তাঁরা বলছিলেন, সপ্তাহ তিনেক আগে পাভলভে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত আবাসিকদের ইভিএম ব্যবহারের খুঁটিনাটি শেখাতে এসেছিলেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা। তখন আবাসিকদের হাসপাতালের ভিতরের একটি ভবন থেকে অন্য একটি ভবনে যাওয়ার কথা ছিল। গ্রুপ ডি কর্মীদের কাজ, সকলকে এক সঙ্গে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার। অভিযোগ, সেই কাজের জন্য প্রথমে তাঁরা নড়তেই চাইছিলেন না।

সম্প্রতি হাসপাতাল-চত্বরে স্থাপনাশিল্পের কাজে পাভলভের আবাসিকেরা অনেকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই শিল্পীদের অন্যতম টুকাইকে হাসপাতালের নতুন কর্মীদের চাপে রোগীদের খাবার ঘরের দরজা খোলার কাজ করতে হচ্ছে। ওই কাজ গ্রুপ ডি কর্মীদের। অভিযোগ, টুকাইয়ের উপরে খাবার ঘর খোলার কাজ চাপিয়ে দিয়েছেন ওই কর্মীরাই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, টুকাই একদিন খাবার ঘরের দরজা খুলতেই খিদের তাড়নায় কাতর রোগীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভিতরে ঢুকতে যান। তাতে টুকাই আহত হন। সৃজিতবাবুর

কথায়, ‘‘আশা করা যায়, পরের সপ্তাহেই গ্রুপ ডি কর্মীদের কী করতে হবে বা হবে না, তা আমরা ক্লাস নিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারব। এই সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement