বৃহস্পতিবার বিকেলে ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই।
রবিবার ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে কি যাবেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? সকালেই তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সেই মতো ভবানী ভবনের সামনে নিরাপত্তাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে বৃহস্পতিবার রাতে অভিষেককে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তার পর রবিবার ফের তলব করা হয়। অভিষেক জানিয়েছিলেন, তিনি যথা সময়ে হাজিরা দেবেন। তবে তার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গিয়েছে। শুক্রবার অন্য একটি মামলায় অভিষেকের বাড়ি গিয়ে তাঁকে নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। হাজিরা দিতে বলা হয় ১৬ জুন। আবার, ১৫ জুন প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে তলব করেছে। এ ছাড়া, শনিবার ভোরে তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে ঢুকেছিল শালবনি থানার পুলিশ।
সই কাণ্ডে অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। দু’সপ্তাহ পর ওই মামলার ফের শুনানি হবে। তত দিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। আদালতের নির্দেশ এবং রক্ষাকবচের পর অভিষেক রবিবার হাজিরা দেবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ছুটির দিন হলেও সিআইডি কর্তারা সকাল থেকে একে একে ভবানী ভবনে ঢুকছেন। এলাকায় বাড়তি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন।
অভিষেকের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সল্টলেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সল্টলেকের মামলার সূত্রে ধরে শুক্রবার ফের তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নোটিস দিয়ে আসা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ফের ডাকা হয়েছে আগামী ১৬ জুন। এ ছাড়া, ১৫ জুন প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেককে তলব করেছে ইডি। এই দুই মামলায় অভিষেকের কোনও রক্ষাকবচ নেই।
অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে শনিবার গভীর রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ দেখা গিয়েছিল অভিষেকের বাড়িতেই। রাত ৩টে থেকে ডাকাডাকি করা হলেও কেউ সাড়া দেননি। ভোর ৫টা নাগাদ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের ডেকে অভিষেকের বাড়ির তালা ভাঙে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ বেরিয়ে যায়। অভিষেকের বাড়ি থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। পাওয়া যায়নি আপ্তসহায়ককেও।
বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একাধিক বার তলব করেছিল সিআইডি। প্রথমে তিনি কয়েক বার হাজিরা এড়ান। তার পর রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। আদালত নির্দেশ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরে তিনি ভবানী ভবনে গিয়েছিলেন।