নির্জন: মহাকরণের সামনে এই জায়গাতেই নামিয়ে দেওয়া হয় তরুণীকে। ছবি: রণজিৎ নন্দী
মহিলা বলে বাড়তি টাকা দাবি করেছিলেন ট্যাক্সিচালক। তা দিতে রাজি না হওয়ায় শাটল ট্যাক্সি থেকে তাঁকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে এ শহরের রাতপথে। ঘটনাটি জানাজানি হতে যাত্রী-হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিভিন্ন ট্যাক্সি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ফেসবুক পেজে অভিযোগ পেয়ে চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
অভিযোগ, ঘটনার রাতে চাঁদনি চকের অফিস থেকে বেরিয়ে হাওড়া স্টেশন যাওয়ার জন্য শাটল ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন তরুণী। তাঁর পুরুষ সহযাত্রীর থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও তাঁর থেকে চাওয়া হয় ১০০ টাকা। কারণ হিসেবে বলা হয়, মহিলাদের জন্য ভাড়া বেশি। তিনি দিতে রাজি না হলে তাঁকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন চালক। তবুও ওই যাত্রী বাড়তি টাকা না দেওয়ায় তাঁকে মহাকরণের আগে নির্জন রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চালক চলে যান বলে অভিযোগ। হাওড়া সিটি পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তৎপর হয়। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরীর নির্দেশে শুরু হয় তল্লাশি। শনিবার রাতে ট্যাক্সিটি ফের স্টেশন চত্বরে এলে গাড়ি-সহ চালক সঞ্জয় মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় হতবাক কলকাতা পুলিশও। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের ডিসি (ট্র্যাফিক) সন্তোষ পাণ্ডে রবিবার বলেন, ‘‘ওই মহিলা যে ভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত লজ্জার। এমন ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন ট্যাক্সি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। ‘প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সি মেনস ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ দে বলেন, ‘‘মহিলা যাত্রী বলে কখনওই বেশি ভাড়া দাবি করতে পারেন না চালক। এটা চরম অন্যায়।’’ এআইটিইউসি অনুমোদিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যাক্সি অপারেটর্স কো-অপারেটিভ কমিটি’-র আহ্বায়ক নওয়াল কিশোর শ্রীবাস্তবের কথায়, ‘‘পুরুষ ও মহিলা যাত্রীর থেকে আলাদা ভা়ড়া চাওয়া শুধু অন্যায় নয়, অপরাধ।’’ সিটু অনুমোদিত ‘ট্যাক্সি সংগঠনের তরফে প্রমোদ ঝার সাফ কথা, ‘‘এ হেন অন্যায় কোনও ভাবেই মানা যায় না।’’ প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সি মেনস ইউনিয়নের তরফে আবেদন করা হয়েছে, এই ধরনের অভিযোগ পেলে যাত্রীরা যেন চুপ না থেকে কঠোর প্রতিবাদ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।