—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
শবে বরাত উপলক্ষে শহরের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নিল কলকাতা পুলিশ। আগামী মঙ্গল ও বুধবার শবে বরাতের দিনকে সামনে রেখে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বুধবার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শবে বরাত। মঙ্গলবার রাত থেকেই শবে বরাত পালন শুরু হয়ে যাবে। তাই ওই দু’দিন কলকাতার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ছ’টা থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ছ’টা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে। গার্ডেনরিচ রোড, আক্রা রোড, পাহাড়পুর রোড, ডা. এ কে রোড, বিদ্যাসাগর সেতু, একবালপুর রোড, ডায়মন্ড হারবার রোড, এজেসি বোস রোড, সিআইটি রোড, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড-সহ মোট ৩৬টি রাস্তায় সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
তবে জরুরি পরিষেবার স্বার্থে কিছু ছাড়ও রাখা হয়েছে। যেমন দুধ, ওষুধ, অক্সিজেন, মাছ, ফল, সব্জি, পেট্রোলিয়াম দ্রব্য ও এলপিজি পরিবহণকারী যান এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। এ ছাড়া ১৬০০ কেজির কম ওজনের হালকা পণ্যবাহী গাড়ি নির্দিষ্ট সময়ে চলাচলের অনুমতি পাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কলকাতার বন্দর এলাকার সঙ্গে যুক্ত পণ্যবাহী গাড়ি ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, উৎসবের দিনে অপ্রয়োজনীয় সফর এড়িয়ে চলতে এবং ট্রাফিক নির্দেশিকা মেনে চলার। এই নিয়ন্ত্রণে শহরে শান্তি, নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ধর্মীয় আচার পালনে সহায়ক হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন থানার পুলিশ রাস্তায় মোতায়েন থাকবে। নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বা যানজট দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এই বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা সফল হবে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় শহরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকবে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঘোষণা বা সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে। তাই নাগরিকদের সর্বশেষ আপডেট দেখে রাস্তায় বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।