রঙের উৎসবকে কেন্দ্র করে মহিলাদের নিগৃহীত হওয়ার দু’টি ঘটনা ঘটল বাগুইআটিতে। একটি ঘটে রবিবার, স্থানীয় সাহাপাড়ায়। অন্যটি সোমবার, দশদ্রোণে। প্রথম ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করলেও দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযুক্ত রাত পর্যন্ত অধরা।
পুলিশ জানায়, রবিবার সাহাপাড়া দিয়ে যাচ্ছিলেন উল্টোডাঙার এক তরুণী। তখন রিকশা স্ট্যান্ডের কাছে এক দল যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে জবরদস্তি রং দিতে যায় বলে অভিযোগ। তরুণী প্রতিবাদ করলেও তা কথা কানে তোলেনি যুবকেরা। এ নিয়ে যুবকদের সঙ্গে তাঁর বচসা বেধে যায়। তখন তরুণীর হাত ধরে কয়েক জন টানাটানি করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আক্রান্ত তরুণী সেখানকার বাসিন্দা, তাঁর মাসতুতো ভাইকে ফোন করে জানান।
দিদির ফোন পেয়ে কিছু ক্ষণের মধ্যেই এক বন্ধু ও আত্মীয়কে নিয়ে আসেন তরুণীর মাসতুতো ভাই নিরত্যয় দাস। দিদির সম্ভ্রমহানির প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। মাথা ফেটে যায় বিদ্যাসাগর কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রের। তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা-প্রধান সন্তোষ পাণ্ডে বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় রাজীব পোদ্দার ও জয়দীপ সাহা নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।’’ নিরত্যয়ের অভিযোগ, ‘‘সাহাপাড়ায় পৌঁছে দেখি, দিদি কান্নাকাটি করছে। একেবারে পাশের পাড়া হওয়ায় যুবকদের অনেকেই আমার পরিচিত। আমি জানতে চাই, কেন ওরা দিদির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করল? শুনেই ওরা উত্তেজিত হয়ে চড়াও হয়।’’
বাগুইআটির দশদ্রোণে সোমবার যে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে, তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পাড়ার এক দুষ্কৃতী তাঁদের পুকুরে রং লাগা গাড়ি ধুতে আসে। পুলিশ জানায়, ওই গৃহবধূর পরিবার তাঁদের পুকুরে গাড়ি ধোয়ার প্রতিবাদ করায় সেই দুষ্কৃতী ও তার দলবল গৃহবধূকে মারধর করে তাঁর শ্লীলতাহানিও করে বলে অভিযোগ। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে মার খান তাঁর স্বামী। এর পরে ওই দম্পতি বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হননি।