Golf Green Death Case

গল্ফগ্রিনে মৃত যুগলের পেটে মিলেছে মদ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে মাদকের উপস্থিতি! রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তিন বন্ধু

গল্ফগ্রিন-কাণ্ডে মৃত তরুণীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা প্রায়ই হাউসপার্টি করতেন ওই ফ্ল্যাটে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ২৩:০২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

গল্ফগ্রিনের এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া যুগলের মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য। ইতিমধ্যেই তাঁদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মিলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তে মৃত তরুণ-তরুণী দু’জনের পেটেই মদ পাওয়া গিয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে তাঁরা মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সোমবার ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক দল।

Advertisement

গল্ফগ্রিন-কাণ্ডে মৃত তরুণীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা প্রায়ই হাউসপার্টি করতেন ওই ফ্ল্যাটে। সেখানে থাকতেন মৃত তরুণ-তরুণীও। পুলিশ জানতে পেরেছে, হাউসপার্টিতে একসঙ্গে ছিলেন পাঁচ জন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, তরুণীর মৃত্যু আগে হয়েছে। প্রায় ৩৬-৪৮ ঘণ্টা আগে। পরে মৃত্যু হয় তরুণের। কী ভাবে দু’জনের মৃত্যু হল, তা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।

ধৃতেরা হলেন মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত। তিনি হরিদেবপুরের বাসিন্দা। এ ছাড়াও, চন্দন পাসওয়ান নামে এক যুবককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তৃতীয় জন চক্রধরপুরের বাসিন্দা অঞ্জলি বঙ্গীরা। ধৃতদের সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক সকলকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর বাড়ি কলকাতার রামগড়ে। তরুণের বাড়ি তিলজলায়। রবিবার সকালে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় যুগলের দেহ। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে নিজের ১৮তম জন্মদিনে শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন মৃতা। শাহবাজ তাঁর প্রেমিক বলেই পরিচিত ছিলেন। বাড়ি থেকে পালানোর পর বিভিন্ন জায়গায় থাকা শুরু করেন যুগল। তার মধ্যেই এক হাউসপার্টিতে অঞ্জলির সঙ্গে আলাপ হয় ওই তরুণীর। অঞ্জলি কলেজে পড়তে কলকাতায় এসেছিলেন। দু’জনে ঠিক করেন বাড়ি ভাড়া করে একসঙ্গে থাকবেন। মৃত তরুণের সঙ্গে থাকতেন রোহিত। অঞ্জলির সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই আলাপ ছিল। সেই সূত্র ধরে মৃতার সঙ্গেও আলাপ হয় তাঁদের। সকলে মিলে প্রায়ই হাউসপার্টি করতেন তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, হাউসপার্টিতে নেশার সামগ্রী থাকত। ঘটনার সময়েও ওই পার্টিতে কী কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধৃতেরা কোথা থেকে টাকা পেতেন, আয়ের উৎস কী ছিল— তা-ও তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত তরুণ রিল বানাতেন। রোহিত সমাজমাধ্যমে ‘বাইকার’ নামে রিল করেন। সেই সব রিল থেকে কিছু আয় হতো কি না, তা পুলিশের নজরে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement