ভয় কাটেনি, এই শীতে আড়ালেই উল্লুকছানারা

চিড়িয়াখানার অন্দরে ছ’মাস কাটিয়ে ফেলেছে তারা। কিন্তু এখনও মানুষের ভয় কাটেনি দুই ‘শিশু’ উল্লুকের। তাই চলতি শীতে দর্শকদের সামনে তাদের হাজির করতে নারাজ আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তারা।

Advertisement

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:০২
Share:

উদ্ধার হওয়া সেই উল্লুকছানারা। ফাইল চিত্র

চিড়িয়াখানার অন্দরে ছ’মাস কাটিয়ে ফেলেছে তারা। কিন্তু এখনও মানুষের ভয় কাটেনি দুই ‘শিশু’ উল্লুকের। তাই চলতি শীতে দর্শকদের সামনে তাদের হাজির করতে নারাজ আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তারা। তাঁদের যুক্তি, শীতের মরসুমে উপচে পড়া ভিড় হয় চিড়িয়াখানায়। সেই ভিড়, হইচইয়ে আরও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হতে পারে উল্লুকছানারা। তাই শীত, চ়ড়ুইভাতি, হইচইয়ের মরসুমে উল্লুক-দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে আলিপুর চিড়িয়াখানার দর্শকদের।

Advertisement

এ দেশে উল্লুক দেখতে পাওয়া যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ভারতীয় বন্যপ্রাণ আইনের প্রথম তফশিলভুক্ত উল্লুক ‘বিপন্ন’ গোত্রের প্রাণী। অর্থাৎ বন্যপ্রাণ আইনে বাঘের সমান মর্যাদা পায় উল্লুকেরাও। চলতি বছরের ৩১ মে কলকাতা দিয়ে পাচার করার সময়ে এই দু’টি উল্লুক-সহ ভাম, প্যারাকিট (টিয়া প্রজাতির পাখি) নিয়ে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের হাতে দু’জন ধরা পড়েছিল। সেই সময়ে প্রাণী ও পাখিগুলিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই থেকেই তাঁরা আলিপুরে রয়েছে।

রাজ্য জু অথরিটির সদস্য-সচিব বিনোদকুমার যাদব জানান, পশু-চিকিৎসকেরা উল্লুক দু’টির নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দিলে তবেই দর্শকদের সামনে আনা হবে ওই দু’জনকে। জু অথরিটির সূত্র অবশ্য এ-ও জানিয়েছে, উল্লুকেরা ভীষণ চঞ্চল। গাছে উঠে লাফালাফি, হইচই না করলে তাদের মন ভরে না। তাই সাবালক উল্লুকদের রাখার জন্য বড় জায়গা প্রয়োজন। শিম্পাঞ্জির খাঁচার পাশে একটি জায়গা রয়েছে। তবে উল্লুক দু’টি সাবালক হলে সেই জায়গাও কুলোবে না। তাই চিড়িয়াখানার অন্দরেই আরও দু’টি জায়গা দেখা হয়েছে। তারই একটিতে উল্লুকদের ঠাঁই তৈরি করা হবে।

Advertisement

আলিপুর চিড়িখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত বলেন, ‘‘উল্লুক দু’টি ছেলে এবং মেয়ে। সুস্থ আছে দু’জনেই। মুরগির ডিম এবং বিভিন্ন মরসুমি ফল খাচ্ছে ওরা। তবে পাতে ডিম পেলে ওদের আনন্দ একটু বেশিই হয়।’’ চিড়িয়াখানা সূত্রের খবর, দু’টিরই বয়স বছর দে়ড়েকের আশপাশে। প্রাণীবিদেরা বলছেন, বছর দেড়েক বয়স হলেও উল্লুকদের জগতে এখনও ওরা শিশু। ফলে হঠাৎ করে মানুষের হইচই দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়তেই পারে।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানাচ্ছেন, শীতকালে ভিড় করা দর্শকেরা শুধু হইচই করেন না, প্রাণীদের উত্ত্যক্তও করেন। শিশু প্রাণীরা তাই ভিড় দেখে ভয় পায়। জু অথরিটির সদস্য-সচিব বিনোদকুমার যাদব বলেন, ‘‘এ বছর থেকে এই অসভ্যতা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করব। পশুপাখিদের উত্ত্যক্ত করলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement