Taratala Godown Collapse

তারাতলায় উদ্ধারকাজের স্বীকৃতিপত্র, নাম বদলাল ‘উইনার্স’ বাহিনীর

তারাতলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি সব পক্ষ ঝাঁপিয়ে পড়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন বলে আগেও প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, আগে এ ভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:২৭
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় হাতে হাত মিলিয়ে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়া সব পক্ষকে ভাল কাজের স্বীকৃতিপত্র দিল রাজ্য সরকার। শনিবার আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে ওই অনুষ্ঠানে স্বীকৃতিপত্র তুলে দেওয়া হয় তারাতলা-কাণ্ডে কাজ করা পুলিশ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, পুরসভা থেকে রেলের কর্মী, দমকল আধিকারিক থেকে অ্যাম্বুল্যান্স চালক— সকলের হাতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘অতীতে অনেক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে উদ্ধারকাজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ভাবে সকলে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ হয়নি। সাধারণ মানুষ সকলের আগে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি তারাতলায় গিয়ে তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’’ এর পরে তাঁর বার্তা, ‘‘বিশেষ উদ্ধারকারী দল তৈরি করা হচ্ছে। সেই দলের সদস্যেরা সেনা এবং ন্যাশনাল ডিজ়াস্টার রেসপন্স ফোর্সের পরামর্শ নেবে। আর, এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’’ এ দিনের অনুষ্ঠান থেকেই এর পরে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামে শহরের নতুন মহিলা পরিচালিত টহলদারি গাড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তারাতলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি সব পক্ষ ঝাঁপিয়ে পড়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন বলে আগেও প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, আগে এ ভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এ দিন শুভেন্দু জানান, তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৫০ জন সেনা জওয়ান কাজ করেছেন। একই সংখ্যক ন্যাশনাল ডিজ়াস্টার রেসপন্স ফোর্স বা এনডিআরএফ জওয়ানও কাজ করেছেন। ১৬০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মীও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। এঁদের পাশাপাশি, ১২৫ জন দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীও ছিলেন। ছিলেন কলকাতা পুলিশের ১৯০ জন এবং কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের ৭৫ জন কর্মী। ভারতীয় রেলের তরফেও ৯০ জন আধিকারিক কাজ করেছেন। ছিলেন ৫০ জন চিকিৎসক ও নার্স। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এত জন জান-প্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলেই ১৭ জন শ্রমিকের প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে। এর পরেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। ছ’তলা নির্মীয়মাণ সমস্ত ভবনের বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট করা হচ্ছে। এই কাজে আইআইটি খড়্গপুর এবং রাইটস-কে যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সকলে মিলেই কাজ করতে হবে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, কলকাতার রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করতেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে সরকারের তরফে। যার মধ্যে অন্যতম ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ তৈরির সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের ঠিক আগে বিগত সরকার মহিলা অফিসার পরিচালিত গোলাপি রঙের যে ‘শাইনিং’ নামের টহলদারি গাড়ি নামিয়েছিল, তার নাম বদলে এ দিন থেকেই করা হল ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। মহিলা গাড়িচালক ও মহিলা অফিসার থাকবেন তাতে। শহরের রাস্তায় নির্দিষ্ট কিছু সময়ে টহলদারি চালাবে এই গাড়ি। পুলিশ সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘দ্য উইনার্স’-এর নামও বদলে এখন থেকে করা হচ্ছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।

রাজীব কুমার কলকাতার নগরপাল থাকাকালীন, ২০১৮ সালের ১১ জুলাই আত্মপ্রকাশ ঘটে উইনার্স বাহিনীর। মূলত সন্ধ্যায় ও রাতে রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই বাহিনীর সৃষ্টি। বাছাই করা মহিলা পুলিশকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় ২০১৮-র মার্চ থেকে। মোটরবাইকে সওয়ার এই বাহিনী মার্শাল আর্টের পাশাপাশি আধুনিক সব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারেও সিদ্ধহস্ত। কয়েক জন অফিসারের পাশাপাশি এই মুহূর্তে উইনার্স বাহিনীতেরয়েছেন অন্তত ৯৯ জন পুলিশকর্মী। উইনার্স বাহিনীর দাপটে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা কমেছে বলে পুলিশের দাবি। দেশে সাড়া ফেলে দেওয়া একাধিক ধর্ষণের ঘটনার পরেও এই বাহিনীকে বাড়তি নজরদারি চালাতে দেখা গিয়েছিল শহরে। যে সব জায়গা থেকে অতীতে মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের অভিযোগ বেশি আসত, সেখানেই দেখা যেত এই বাহিনীর তৎপরতা। দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সময়েও এই বাহিনীর ভূমিকা বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন