— প্রতীকী চিত্র।
কেউ যাবেন বিদেশে। কারও সন্তান স্কুলে ভর্তি হবে। এমন নানা কারণে বহু লোকের জন্মের শংসাপত্রের প্রতিলিপি প্রয়োজন হয়। তা পেতে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে কলকাতা পুর ভবনে। অথচ, ভুক্তভোগীদের ফিরে আসতে হচ্ছে খালি হাতেই। একই রকম হয়রান হতে হচ্ছে মৃত্যুর শংসাপত্রের প্রতিলিপি পাওয়ার ক্ষেত্রেও। কারণ, পুরসভার কাছ থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়া যায় যে পোর্টালের মাধ্যমে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেই পোর্টাল বিকল। তা কবে আবার সচল হবে, সেই বিষয়ে অন্ধকারে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরাও। বুধবার এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম শুধু বলেন, ‘‘ওই পোর্টালের কিছু কিছু জায়গায় গাফিলতি ধরা পড়েছে। সেগুলি শুধরে পোর্টাল শীঘ্রই চালু করা হবে।’’
যদিও স্বাস্থ্যসচিব পোর্টালে যে গাফিলতির কথা উল্লেখ করেছেন, পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর তা মানতে চায়নি। পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নাগরিকেরা যাতে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের প্রতিলিপি সহজে পান, তার জন্য অতিরিক্ত হেল্পডেস্ক চালু করেছিল তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড। গত ৪ মে প্রকাশিত হয়েছে বিধানসভা ভোটের ফল। তার পরে ১৩ মে-র পর থেকে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়ার পোর্টালটি। দফতরের এক আধিকারিক এ দিন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘পোর্টাল কেন বন্ধ করা হল, সেই বিষয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি পাইনি। ১৩ মে থেকে দেখছি, পোর্টাল কাজ করছে না। কবে চালু হবে, তা-ও জানি না।’’
এ দিন পুরসভায় জন্মের শংসাপত্রের প্রতিলিপি পেতে এসেছিলেন একাধিক মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বললেন, ‘‘আমার জন্মের শংসাপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন প্রতিলিপি নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে জানতে পারলাম, পোর্টাল বন্ধ থাকায় এই মুহূর্তে শংসাপত্রের কপি দেওয়া যাবে না। এ দিকে, আমার শীঘ্রই শংসাপত্রটি দরকার।’’
পুরসভা সূত্রের খবর, চ্যাটবটের মাধ্যমে বিশেষ নম্বরে ওয়টস্যাপ করে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে পুর উদ্যোগ আগে থেকেই চালু আছে। কিন্তু অভিযোগ, অনেকে ওই নম্বরে ওয়টস্যাপ করেও সদুত্তর পাচ্ছেন না। যদিও পুর স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ জন্ম-মৃত্যু বিভাগের তরফে দাবি করা হয়েছে, চ্যাটবটে যোগাযোগ করে পুরসভায় আসতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। শুধু আবেদনপত্র নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পোর্টাল বন্ধ থাকায় জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া যাচ্ছে না।
পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সার্টিফিকেট মিলছে না। অথচ, চ্যাটবট নম্বরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া এখন সাধারণ ব্যাপার। এতে করে বহু লোকের হয়রানি বাড়ছে।’’ তবে পুরসভা সূত্রের খবর, পোর্টাল বন্ধ থাকলেও সদ্যোজাতদের জন্মের শংসাপত্র বা সম্প্রতি যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে সমস্যা হচ্ছে না। শুধুমাত্র যাঁদের জন্ম-মৃত্যুর পুরনো শংসাপত্রের প্রতিলিপি দরকার, পুর ভবনে রোজ হাজির হয়েও তাঁদের ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে