দিদি দেবযানীকে তিনি খুন করেননি, এ ব্যাপারে তদন্তকারীরা নিশ্চিত। তা সত্ত্বেও রবিনসন স্ট্রিটের কঙ্কাল কাণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পার্থ দে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘরের মধ্যে পচে যাওয়া মৃতদেহ থেকে এলাকায় জটিল রোগ ছড়াতে পারত। সেই কারণেই পার্থকে এই কাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পার্থ দে-র বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, পার্থ দে-র বিরুদ্ধে দিদির মৃত্যুর কথা চেপে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সেই অভিযোগও চার্জশিটে দিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। তবে এই সব অভিযোগগুলি আইনের চোখে সবই লঘু গোত্রের। অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ছ’মাস। যদিও পার্থ দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে সাব্যস্ত হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে লালবাজারের কর্তাদের একাংশের। তাঁরা বলছেন, ঘটনার সময় পার্থ যে মানসিক ভাবে সুস্থ নন, সেই প্রসঙ্গ আদালতে উঠবে। তাতে অভিযোগ আরও লঘু হয়ে যেতে পারে। তা হলে চার্জশিট দেওয়া হল কেন?
লালবাজারের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘কোনও ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া পুলিশের কাজ। তিনি মানসিক ভাবে সুস্থ কি না, তা আদালতের বিচার্য বিষয়। তাই পুলিশ এ ক্ষেত্রে নিজের কাজ করেছে।’’ ঘটনার পরেই আদালত চিকিৎসার জন্য পার্থকে পাভলভ মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি মাদার হাউসে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
গত ১০ জুন রাতে ৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে পার্থ দে-র বাবা অরবিন্দ দে-র অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ জুন সকালে পার্থ-ই পুলিশকে দিদির মৃত্যুর কথা জানান। পুলিশ বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখে, একটি ঘরে এক মহিলা ও দু’টি কুকুরের কঙ্কাল শোয়ানো রয়েছে। পার্থ পুলিশকে জানান, ওই কুকুর দু’টি তাঁদের পোষ্য ছিল। সেগুলি মারা যাওয়ার পরে দেবযানী সৎকার করতে দেননি। দেবযানী মারা যাওয়ার পরেও তাঁর সৎকার করেননি পার্থ। কঙ্কাল উদ্ধারের পর পুলিশ সেটির সুপার ইম্পোজিশন পরীক্ষার জন্য চণ্ডীগড়ের ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছিল।
চণ্ডীগড়ের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই করোটি দেবযানীরই। সেটি জানার পরে পরে দেবযানীর অস্থি-কঙ্কালের সৎকার করা হলেও করোটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই করোটি আদালতের নথি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তার ফলেই সেটি সংরক্ষণ করতে হয়েছে।