সন্ন্যাসিনীর শতবর্ষে শ্রদ্ধা

ছোট থেকেই ধর্মের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ। বড় হওয়ার সঙ্গে সেই যোগাযোগও বাড়ে। তিন-চার বছর বয়সে এক দিন ভিক্ষারত সন্ন্যাসীর পিছনে ধাওয়া করে পৌঁছে যান তাঁর কুটিরে। দেখতে চেয়েছিলেন, কেমন হয় সন্ন্যাসীর জীবন। ২৭ বছরে বিবেকানন্দ রচনাবলী ঠিক করে দেয় জীবনের গতিপথ। তিনি প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণা। শ্রীসারদা মঠ ও রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের দ্বিতীয় অধ্যক্ষা। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্মশতবর্ষ পূর্তি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫৫
Share:

অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণা। বুধবার, নজরুল মঞ্চে। ছবি: রণজিৎ নন্দী

ছোট থেকেই ধর্মের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ। বড় হওয়ার সঙ্গে সেই যোগাযোগও বাড়ে। তিন-চার বছর বয়সে এক দিন ভিক্ষারত সন্ন্যাসীর পিছনে ধাওয়া করে পৌঁছে যান তাঁর কুটিরে। দেখতে চেয়েছিলেন, কেমন হয় সন্ন্যাসীর জীবন। ২৭ বছরে বিবেকানন্দ রচনাবলী ঠিক করে দেয় জীবনের গতিপথ। তিনি প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণা। শ্রীসারদা মঠ ও রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের দ্বিতীয় অধ্যক্ষা। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্মশতবর্ষ পূর্তি।

Advertisement

বুধবার তাঁর জন্মদিনে সেই উপলক্ষে নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণা মেমোরিয়াল সোসাইটি। রামকৃষ্ণের ভাবধারায় বেড়ে ওঠা ওই সন্ন্যাসিনীর ছবির সামনে প্রদীপ জ্বালান শ্রীসারদা মঠ ও রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের সাধারণ সম্পাদক প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণা। প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণার স্মরণে ‘শতবর্ষের স্মরণাঞ্জলি’ নামে বই এবং একটি তথ্যচিত্রের ডিভিডি-ও প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছে সেই তথ্যচিত্রও।

আয়োজকেরা জানান, প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণার জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের উদ্দেশ্যেই বছর দুয়েক আগে এই সোসাইটি তৈরি হয়। শুধু তা-ই নয়, তাঁর আদর্শ ও বাণী অনুসরণ করে ইতিমধ্যেই গ্রামে-গ্রামে শিশু ও মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত এলাকায় দেওয়া হয়েছে ওষুধ, কম্বল, মশারি। হরিপালের বলদবাধে রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের কোচিং সেন্টারে দুঃস্থ পড়ুয়াদের জন্য প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণার নামে গ্রন্থাগারও চালু হয়েছে। সোসাইটির তরফে বর্ষা মুখোপাধ্যায় জানান, তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে ২০১৬-য়। তার জন্য সোসাইটির তরফে রামকৃষ্ণ সারদা মিশনকে অর্থ সাহায্য করা হবে।

Advertisement

রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের দুঃস্থ ছাত্রীদের বৃত্তি দিতে এ দিন প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণার হাতে ন’লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন সোসাইটির সভাপতি জয়ন্তী রায়। প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণার স্মৃতিচারণে প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণা জানান, দক্ষ হাতে সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও ছিল তাঁর মধুর যোগাযোগ। হোমিওপ্যাথির জ্ঞান থাকায় মঠের উল্টো দিকে দুঃস্থদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন দাতব্য চিকিৎসালয় চালু করেন তিনি। রোগীদের বাড়ি গিয়ে শুশ্রূষাও করতেন। এক বার বস্তিতে নিউমোনিয়া-আক্রান্ত শিশুকে চাটাইয়ে শুয়ে থাকতে দেখে নিজের বিছানার চাদর ও কম্বল দিয়ে আসেন মমতাময়ী প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণা।

প্রব্রাজিকা অমলপ্রাণা বলেন, ‘‘মোক্ষপ্রাণা মাতাজি বলতেন, ধর্ম মানে কোনও বিশেষ সম্প্রদায় নয়। তা হল মানুষকে ভালোবাসা, তাঁদের সেবায় তৎপর থাকা। তাঁর সেই কথা অনুসরণ করতে পারলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement