মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র। — ফাইল চিত্র।
স্পিকারের বাঁ দিকে প্রথম আসন, যেটি বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ থাকাই রেওয়াজ, সেই আসনটি বৃহস্পতিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল! এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সী, রুকবানুর রহমান, কুণালেরা। তার পরেই শোভনদেব, কুণালেরা দাবি করেন, বিধানসভায় তাঁদের বসার পৃথক ঘর, আসন নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর ঘর থেকে বেরিয়ে কুণাল জানান, তাঁদের সাক্ষাৎপর্ব ইতিবাচক হয়েছে। পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতিতে শুভেন্দু জানিয়েছেন, তাঁদের বসার জন্য আলাদা ঘর দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে মুখ্য সচেতক তাঁদের বলার জন্য সময় দেবেন বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এমনটাই দাবি কুণালের। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীও বুঝতে পারছেন, আমরা স্পিকারের ছায়া, বিরোধী দলনেতার কাছে বলার জন্য সময় চাইতে যাব না। অন্য বিরোধী দলের বিধায়কেরা যে ভাবে বলার সময় পাবেন, সেই ভাবে আমরাও পাব।’’
কুণাল দাবি করেন, তাঁরা (মমতাপন্থী তৃণমূল) গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করতে চান। নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন কুণাল।
মুখ্যমন্ত্রী-সহ নতুন সরকারের বিষয়ে সদর্থক মন্তব্য করলেও, বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতকে বারে বারে আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল। বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের ভাষণে নারী নিরাপত্তা এবং মহিলাদের উপর যে কোনও নির্যাতনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। সেই অংশ উদ্ধৃত করে বর্তমান বিরোধী দলনেতার অতীত প্রসঙ্গ টেনে আনেন কুণাল। তাঁর কথায়, ‘‘ঋতব্রতের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তা হলে রাজ্যপালের ভাষণই অসার।’’
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনের প্রথম দিন দেখা যায় বিধানসভায় আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। বাকি ১৪ জন বিধায়ক কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বিরোধী বেঞ্চের অন্য একটি অংশে বসেছিলেন। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকেও।
এ বারের বিধানসভা ভোটে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই হিসাবে তারাই রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল। দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন শোভনদেবকে। সে কথা স্পিকারকে জানিয়ে গত ৯ মে একটি চিঠি দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। অন্য দিকে, ঋতব্রতদের তরফে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ তোলা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত। তার আগেই ‘দলবিরোধী কাজের’ অভিযোগে ১ জুন তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন। আলিপুর দেওয়ানি আদালত অবশ্য সেই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।