নির্বাচন সদনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কখনই নির্বাচন বয়কট করবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘এই ভুল কখনই করব না আমরা। আমরা লড়ে নেবে। ছ’মাস আগে থেকে আমাদের সরকারকে দখল করে রেখেছে। কোনও কাজ করতে দেয় না। বাংলা যেন রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে বার বার।’’
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মঙ্গলবার জানানো হবে। মমতার কথায়, ‘‘পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হবে, তা আমার দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করা হবে। মঙ্গলবার জানিয়ে দেওয়া হবে। এই নির্বাচন কমিশনের থেকে আমাদের কোনও আশা নেই। এরা বিজেপির দালাল, দালাল, দালাল, দালাল...।’’ মমতার দাবি, জমিদারি মেজাজে বৈঠকে কথা বলেছেন জ্ঞানেশ। মঙ্গলবার কী কর্মসূচি হবে তা রাতে জানানো হবে বলে জানান মমতা। তাঁর দাবি, ‘‘হাই কোর্টের বিচারপতির স্ত্রীদেরও নোটিস পাঠিয়েছে। এ বার জনতা ওদের নোটিস দেবে।’’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির ‘তোতাপাখি’ বলে আক্রমণ মমতার। তাঁর কথায়, ‘‘আমি অনেক কমিশনার দেখেছি। কিন্তু কেউ তোতাপাখি ছিলেন না। সেই জন্য আমাদের অসম্মান করা হয়েছে। ঠিক ভাবে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। সেই কারণে আমরা বৈঠক বয়কট করে চলে এসেছি। বিজেপি যা বলছে তাই করছে। আমাদের পক্ষে জনতা আছে। আমরা ময়দানে লড়ে নেব।’’
মমতা দাবি করেন, ‘‘আমি যা চিঠি পাঠিয়েছি একটারও উত্তর দেয়নি। ওরা উল্টো কথা বলছে। আমাদের বলছে বিএলও দিইনি। আমরা বিএলও দিইনি তো কারা দিয়েছে? বাইরে থেকে লোক এনে অবজ়ার্ভার করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানে না। ওরা আদালতের কথা শোনে না। এ ভাবেই দেশ চলবে?’’
মমতার দাবি, ‘‘এক দিন ওঁকে (জ্ঞানেশ কুমার) ভুগতেহবে। আপনার পাশে বিজেপির শক্তি আছে, আমাদের পাশে জনগণ রয়েছে। আমরা বয়কট করে চলে এসেছি। আমাদের অসম্মান করেছে, অপমান করেছে। আমি এমন নির্বাচন কমিশন দেখিনি। আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে।’’ মমতার কথায়, ‘‘আমরা বিচার চাইতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের অবিচার করা হয়েছে।’’ জ্ঞানেশকে ‘বড় মিথ্যাবাদী’ বলে তোপ মমতার। কমিশনকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর।
মমতা জানান, তিনি বৈঠকে মুখ্য কমিশনারকে বলে এসেছেন, ‘‘আপনার অবস্থা ধনখড়ের মতো হবে। বিজেপির ভয়ে কাজ করছেন। বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে প্রভাবিত করে জিতে গিয়েছে। কিন্তু বাংলা হবে না।’’ মমতার চ্যালেঞ্জ, ‘‘প্রয়োজনে আমি এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লি আসব। এখানে প্যারেড করাব। বাইরে থেকে অবজ়ার্ভার নিয়ে এসেছে। এত লোকের মৃত্যু হল তার দায় কে নেবে? কমিশনই এই সব মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিজেপির কথায় কাজ করছে কমিশন। ধনখড়জিও এমনই করেছিলেন। আমাদের রাজ্যে রাজ্যপাল ছিলেন। আমাদের বিরুদ্ধে বলতেন। আমরা কিন্তু সম্মান দেখাতাম। তবে সম্মান দেখানোরও একটা লক্ষ্মণরেখা থাকে। এখানে তো দেখছি কোনও লক্ষ্মণরেখা নেই।’’
মমতার দাবি, ‘‘বৈঠক কমিশনের ক্যামেরাম্যানেরা ছিলেন। কেন বাইরের ক্যামেরাম্যানদের অনুমতি দেওয়া হল না? আপনাদের যা ইচ্ছা তাই করবেন।’’
কমিশনকে মমতার প্রশ্ন, ‘‘নির্বাচনের তিন মাস আগে কেন এসআইআর করতে হল? অসমে কেন করা হল না? এখানে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। এআই দিয়ে সীমা খন্না এই কাজ করেছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন। ওনার বাবা-মায়ের জন্মের কুন্ডলী বার করতে বলুন।’’ একই প্রসঙ্গে তুললনে লালকৃষ্ণ আদবাণীর কথাও।
মমতার সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে ‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’দের নিয়ে এসেছিলেন তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন। তার পরেই মমতার দাবি, ‘‘যাঁরা হিন্দু-মুসলমান করেন বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন। ক’জন হিন্দু?’’
কমিশন থেকে বেরিয়ে মমতার প্রশ্ন, ‘‘সীমা খন্না কে? নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের। ৫৮ লক্ষকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কমিশন প্রশ্নও করেনি।’’
জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন, নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে এমনই জানালেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।’’
কমিশনকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ মমতার। তাঁর দাবি, ‘‘ওঁদের বলেছি আমরা আপনাদের কুর্সিকে সম্মান করি। কারও জন্য কুর্সি চিরন্তন নয়।’’ মমতার প্রশ্ন, ‘‘কেন বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে?’’
এক ঘণ্টার বেশি সময় নির্বাচন সদনে বৈঠক করেন মমতারা। বৈঠক শেষে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে আবার কমিশনের বিরুদ্ধে সরব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’’ মমতার অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় কাজ করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হল তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও দুই নির্বাচন কমিশনারও রয়েছেন সোমবারের বৈঠকে।
জীবিত হলেও নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’, এমন ৫০ জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এ ছাড়া, নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও ৫০ জনকে যাঁদের পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য ‘এসআইআর-এর কারণে’ মারা গিয়েছেন। ‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’দের মধ্যে ১২ জনকে নিয়ে কমিশনের দফতরে যান মমতা, অভিষেক। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার সঙ্গে রয়েছেন ‘এসআইআরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত’দের কয়েক জন। সকলের পরনেই কালো পোশাক। কারও পরনে কালো চাদর, কেউ আবার পরেছেন কালো সোয়েটার। সাধারণ ভাবে প্রতিবাদের প্রতীক হিসাবে কালো পোশাক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
আর কিছু ক্ষণ পরেই কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
বিকেল ৪টের পর নির্বাচন সদনে পৌঁছোলেন মমতা। সঙ্গে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের পরনেই কালো পোশাক।
সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনের সামনে আচমকাই দিল্লি পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে। অভিযোগ, এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। বঙ্গভবন ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ভিতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান মমতা। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে থেকেই রাজধানীতে যুদ্ধের আবহ প্রস্তুত করে দেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চলছে। প্রথম থেকেই তৃণমূল এর বিরুদ্ধে সরব। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিকেল ৪টেয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সময় দিয়েছে। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই দিল্লিতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।