আসানসোলে তৃণমূলের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘মধ্য কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে, পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষেই, মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজ়ার আনা হয়েছে। জয়ের উদ্যাপন হিসাবেই তা করা হয়েছে।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই ঘটনায় উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা। গ্রেফতার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত আট জনকে।
বাঁশদ্রোণী থেকে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁর নাম শুভ ঘোষ ওরফে বাবলু। বাবলুর বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কলকাতার তপসিয়া এবং তিলজলায় অশান্তির ঘটনায় জোড়া এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪০ জনকে। এখন সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দিল পুলিশ। বুধবার রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ সুপাররা। সেখানে রাজনৈতিক রং না-দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়। সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়ার জেলাশাসক পি দিপাপ প্রিয়া, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সিপি অখিলেশ চতুর্বেদী ও জেলার (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সুবিমল পাল এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। তাঁরা জানান, জেলার কিছু জায়গায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমস্ত থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। ‘কুইক রেসপন্স’ দল সব সময় বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি থানায় সর্বদলীয় বৈঠক করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কোচবিহারে অশান্তির ঘটনায় ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৬ জনকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতলা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, রাতারাতি দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী রহিমা লস্কর ওরফে বেবি। বুধবার তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলারও অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল থেকেই পঞ্চায়েত দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পৌঁছোতেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের একাধিক গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে বেবিকেও।
বেলা ১১টা নাগাদ লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, “ “ভোট শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে হবে। কেউ গুজবে কান দেবেন না।” তিনি জানান, জেসিবি নিয়ে মিছিল করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, যে সমস্ত জেসিবি-র মালিক এগুলি ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।
খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোথাও ভাঙচুর বা হিংসার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন জ্ঞানেশ। সর্বদা নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে জেলাশাসক এবং পুলিশকর্তাদেরও।
ফলপ্রকাশের দু’দিন পরেও রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা চলছেই। মঙ্গলবার রাতে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার আসানসোল কোর্ট মোড়ে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। সেই আগুনের ফলে এক কেকের দোকানেও আগুন লেগে যায়। এর পাশাপাশি রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজ়া, কুমারপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি এবং বার্নপুরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কিছু কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে খবর। বিজেপি এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। নির্বাচনের ফলাফলের দিন থেকেই নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা দাবি করে আসছেন যে, এইসব ঘটনা দলের কোনও কর্মী করছেন না। তাঁদের দাবি, কিছু দুষ্কৃতী বিজেপির নাম ব্যবহার করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।