শিশুমৃত্যুতে দোষীর গ্রেফতার চান লকেট

বিনা পয়সায় যেতে হবে বলায় বেঁকে বসেছিলেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। তা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের মধ্যে বারাসত হাসপাতালে মারা যায় একটি শিশু। সেই ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সরব হলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪২
Share:

সমব্যথী। অ্যাম্বুল্যান্সের টালবাহানায় মৃত আট মাসের সুহানি সুলতানার মায়ের সঙ্গে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। আমডাঙা থানার উত্তর দরিয়াপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সুদীপ ঘোষের তোলা ছবি।

বিনা পয়সায় যেতে হবে বলায় বেঁকে বসেছিলেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। তা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের মধ্যে বারাসত হাসপাতালে মারা যায় একটি শিশু। সেই ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সরব হলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

বুধবার ওই হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুহানি সুলতানা নামে আট মাসের এক শিশুকন্যার। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বুধবার সকালে। তার পরেই বাড়ির লোকজন তাকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে কলকাতার হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী অসুস্থ শিশুর সেই হাসপাতাল বদলের কাজটা নিখরচায় করে দেওয়ার কথা।

কিন্তু বারাসত হাসপাতালের সামনে দাঁড়ানো অ্যাম্বুল্যান্সের চালক বিনা পয়সায় যেতে রাজি হননি বলে অভিযোগ। সুহানির পরিবারের অভিযোগ, ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালক তেলের দাম এবং বকশিশ বাবদ তাঁদের কাছে ৭০০ টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁদের কাছে তখন অত টাকা ছিল না। তাঁরা হাজারো অনুরোধ-উপরোধ করা সত্ত্বেও অ্যাম্বুল্যান্স চালকের মন গলেনি। শিশুটির পরিজনেরা অন্যান্য অ্যাম্বুল্যান্সের চালকদের কাছে গিয়েও আবেদন-নিবেদন করতে থাকেন। কিন্তু সেই সব অ্যাম্বুল্যান্সের চালকেরাও জানিয়ে দেন, লাইনের শুরুতে যে-গাড়িটি আছে, সেটিকেই নিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্ত চালকের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর টাকার দাবি সমর্থন করেন তাঁরা। বচসা বাধে। সুহানির বাড়ির লোকেদের ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও অভিযোগ। সেই টালবাহানার মধ্যেই শিশুকন্যাটির মৃত্যু হয়। তার পরে অভিযুক্ত চালকের অ্যাম্বুল্যান্সটিকে বাতিল করে দেন হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার আমডাঙার উত্তর দরিয়াপুরে সুহানির বাড়িতে যান লকেট। শিশুটির বাবা ইমদাদুল হোসেন তাঁর কাছে অভিযোগ করেন, শুধু অ্যাম্বুল্যান্স চালক নয়, হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদেরও গাফিলতি ছিল। তাঁরা মেয়েটিকে অক্সিজেন দিতে চাননি। লকেট পরে বলেন, ‘‘অমানবিক ঘটনা। জানতে পেরেই ছুটে এসেছি। এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারি এবং পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’’

কমিটি গড়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য এ দিন বলেন, ‘‘সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। সমস্ত দিক খতিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement