ছুটির দিনে সরগরম ভোটবাজার

 এ দিন সকালে জয়দেব মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অসিত মাল। গাড়ি-ঘোড়া নয়, হেঁটেই জয়দেব, টিকরবেতা, ভবানীপুর, সাহাপুর, নারায়ণপুর-সহ প্রায় ২৬টি গ্রাম ঘোরেন তিনি।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০১৯ ০২:২১
Share:

জনসম্পর্ক: নলহাটিতে শতাব্দী রায়ের প্রচার (বাঁ দিকে)। ইলামবাজারে তৃণমূল প্রার্থী অসিত মালের প্রচার (মাঝে)। বিজেপি-র রামপ্রসাদ দাস এই প্রথম নানুরে প্রচার করলেন (ডান দিকে)। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

হাট-বাজার থেকে আদিবাসী পাড়া — রবিবারের ভোট প্রচারে দলে দলে প্রার্থীদের ভোট ভিক্ষা করতে দেখা গেল জেলাজুড়ে। সপ্তাহান্তে একটা ছুটির দিন। পথে-ঘাটে, চায়ের দোকানে নির্বাচন, উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তার মধ্যেই প্রার্থীদের করজোড়ে উপস্থিতি আলোচনার রসদ বাড়ালো। কোথাও উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়া প্রার্থীকে নিজেদের সমস্যার কথা স্পষ্ট করে জানালেন বাসিন্দারা, কোথাও আবার গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো ভোট লুট হয়ে যাবে না তো? এই প্রশ্ন উড়ে এল প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রার্থীর কাছে।

Advertisement

এ দিন সকালে জয়দেব মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অসিত মাল। গাড়ি-ঘোড়া নয়, হেঁটেই জয়দেব, টিকরবেতা, ভবানীপুর, সাহাপুর, নারায়ণপুর-সহ প্রায় ২৬টি গ্রাম ঘোরেন তিনি। এই এলাকাগুলির অধিকাংশই আদিবাসী অধ্যুষিত। আদিবাসী পরিবারগুলির সামনে গিয়ে হাতজোড় করে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে ভোট দিন, যতটুকু অসুবিধা আছে দূর করব।’’ পাল্টা নমস্কার ও অভিবাদন করলেও নিজেদের সমস্যা বলতে ছাড়েননি আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারা। এখনও উন্নয়নের যা কিছু বাকি সেগুলিও তুলে ধরেন। ইলামবাজারের সুখডালা আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বাসন্তী হেমব্রম বলেন, ‘‘এখনও আমাদের এলাকায় বেশ কিছু জলের সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা সমাধান হলে আমাদের খুব উপকার হযবে।’’ প্রার্থী আশ্বাস দেন, ‘‘ভোটের পরে যে যে অঞ্চলে জলের সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা হবে।’’ দুপুরে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে মাছ ভাত খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে ফের প্রচারে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সন্ধ্যার আগেই যত বেশি সম্ভব লোকের কাছে পৌঁছতে হবে। টোটো, অটো, ভ্যান চালক, সবজি বিক্রেতা সকলের কাছেই হাজির হয়ে নিজের সমর্থনে সবার কাছে ভোট চাইলেন।

অন্যদিকে, এ দিন ইলামবাজার-সহ কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও কীর্নাহারের ২২টি গ্রাম ঘুরে ভোট প্রচার করলেন বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ সাহা। পুরোহিত, মৌলবীদের আশীর্বাদ নিয়ে তাঁদেরকেও ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনিও পথের ধারে রবিবাসরীয় আড্ডা বা জটলা দেখলেই সেখানে গিয়ে ভোট চেয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সমস্যা নিরসনের। সকালে পথচলতি মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে কংগ্রস প্রার্থীকে সবথেকে বেশি শুনতে হয়েছে ভোট দিতে পারবেন কি না সেই প্রশ্ন। ইলামবাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রার্থীকে ঘিরে বলেন, ‘‘ভোট চাইছেন, কিন্তু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা ভোট দিতেই পারিনি। এবার নিজের ভোট নিজে দিতে পারব তো?’’ প্রার্থী ভোটারদের বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। কমিশন কথা রাখলে সকলেই ভোট দিতে পারবেন। সত্যের জয় হবে, গণতন্ত্রের জয় হবে।’’

Advertisement

বীরভূম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে কীর্তনের তালে তাল মেলালেন নলহাটিতে, বিজেপি প্রার্থী মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করলেন। সিপিএম প্রার্থী অবশ্য এসবের ধার ধারেননি। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় হেঁটে হেঁটে বাস ও লরি চালক এবং যাত্রীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রচার সারলেন মুরারইয়ে। ছুটির দিনের প্রচারে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে কেউ যে কাউকে এক ইঞ্চি সুযোগও ছাড়তে নারাজ তা বলাই বাহুল্য।

রবিবার সকাল হতেই প্রচারে বেরিয়ে পড়েন বীরভূমের তিন প্রধান প্রতিপক্ষ। সকালে নলহাটি ১ ব্লকের দুর্গাডাঙ্গাল গ্রামে যান তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দী রায়। সেখানে কীর্তনের দল তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরিই ছিল। এরপর তিনি কীর্তনের দলকে সঙ্গে নিয়েই গ্রামের পথে প্রচারে বেড়িয়ে পড়েন। শতাব্দীও কীর্তনের তালে তাল মেলান। এরপর নলহাটি-১ ব্লকের ভেলিয়ান, দেবগ্রাম, শ্রীপুর ও কয়থা এলাকায় ভোটের প্রচার করেন। এ দিন শতাব্দী বলেন, “প্রচারে বেরিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২১টি করে সভা করতে হচ্ছে। খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো হচ্ছে না। শুধু জলের উপর বেঁচে রয়েছি।” অন্যদিকে, এ দিন সকালে নলহাটি রামমন্দিরে পুজো দিয়ে শহরের পথে প্রচার শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। নলহাটি পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হেঁটে প্রচার সেরে নলহাটি-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে যান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ঠাণ্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করি না। তাই গাড়ি নয়, পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছি। এখানকার মানুষের সুখদুঃখ আমরা যতটা বুঝতে পারব, ঠাণ্ডা ঘরে বসা প্রার্থীরা পারবেন না। তাই তো দু’দুবার সাংসদ হয়েও জেলার মানুষের জন্য সংসদে কিছু বলতে পারেননি আগের সাংসদ।’’

এ দিন সকাল থেকে মুরারই শহরে মিছিল করে প্রচার সারে সিপিএম। পথে পথে জনসংযোগ বাড়াতে তৎপর ছিলেন প্রার্থী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের কাছে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরছি। সেই সঙ্গে আমি যেহেতু নিজে চিকিৎসক তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির উপরে জোর দিচ্ছি। কারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। আজও মানুষকে চিকিৎসার জন্য কলকাতা কিংবা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়।”

খুব সকালে রক্ষাকালী মন্দিরে পুজো দিয়ে এ দিন নানুরে প্রচার শুরু করেন বোলপুর লোকসভার বিজেপি প্রার্থী রামপ্রসাদ দাস। বেশ বর্ণাঢ্য ছিল তাঁর প্রচার প্রস্তুতি। নারকেল ফাটিয়ে, ঢোল বাজিয়ে স্থানীয় কালী পুজো দেন। তারপর কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সাকুলিপুর, পাকুরহাঁস, নূতনপাড়া, রানিপুর প্রভৃতি গ্রামে প্রচার চালান। রামপ্রসাদবাবু এ দিন দাবি করেন, ‘‘এবারে আমরাই জিতব। তৃতীয় স্থানে চলে যাবে তৃণমূল।’’ বিজেপি প্রার্থীর কথায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য্যের কটাক্ষ, ‘‘ছাগলে কি না খায়, পাগলে কি না বলে। বিরোধীদের এখন অবস্থা হয়েছে তাই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement