সুকনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক
শিলিগুড়ি থেকে চোপড়ার জনসভায় যাওয়ার সময়ে মাঝ আকাশে পথ হারাল মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিকপ্টার। সরকারি সূত্রের খবর, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার দাসপাড়ার দিকে না গিয়ে হেলিকপ্টারের চালক বিহারের সাহেবগঞ্জের দিকে চলে যান। ভুল পথে চোপড়া পেরিয়ে আকাশে মিনিট ১৫ যাওয়ার পরে চালক বিষয়টি টের পান। তার পরে কপ্টারটি ঘুরিয়ে ঠিক পথে আনা হয়। তাতে প্রায় আধ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগে। পরে অবশ্য দাসপাড়া হাইস্কুলের মাঠে ঠিকঠাক নামে কপ্টারটি। সভায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আসলে আমাদের রাস্তাটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। আসার কথা ২২ মিনিটে। ৫৫ মিনিটে জায়গা খুঁজে আসতে হয়েছে। ফলে দেরি হয়েছে।’’
মুখ্যমন্ত্রী বলার আগেই অবশ্য সরকারি স্তরে ঘটনার খোঁজখবর শুরু হয়ে যায়। সরকারি স্তরে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চোপড়ায় রাজ্য পুলিশের উত্তরবঙ্গের আইজি আনন্দ কুমার থেকে শুরু করে পুলিশের পদস্থ কর্তারা ছিলেন। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) অফিসারেরা। পুলিশ সূত্রের খবর, বেলা ১টা নাগাদ শিলিগুড়ির দুই মাইল এলাকার একটি হোটেলের উল্টো দিকের ফাঁকা মাঠ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার চোপড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। দেড়টার মধ্যে তা চোপড়ার দাসপাড়া পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরে আকাশে হেলিকপ্টার দেখতে না পেয়ে খোঁজখবর শুরু করেন সকলে। হেলিপ্যাডে গিয়ে জেলা পুলিশ অফিসারদের কাছে দেরির কারণ জানতে চান চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানও। শেষে, বেলা ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ দাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের উপর আকাশে সাদা কপ্টারটিকে চক্কর খেতে দেখে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেব, উত্তর দিনাজপুরের জেলা সভাপতি অমল আচার্য থেকে শুরু করে সকলেই। এর পরে মিনিট দশেকের মধ্যে গাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে চলে আসেন।
পৌনে তিনটে নাগাদ তিনি আবার একই হেলিপ্টারে করে সুকনা লাগায়ো ইলাপাল চৌধুরী স্কুলের মাঠে নামেন। সেখান থেকে সড়কপথে দার্জিলিঙের উদ্দেশে রওনা দেন। এ বার অবশ্য চালকের ভুল হয়নি। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘কোন পথে গন্তব্যে সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছবেন, তার রুটম্যাপ পাইলটের কাছে থাকে। অস্থায়ী হেলিপ্যাডে স্মোক ক্যান্ডেল, এয়ার বেলুন দেওয়া থাকে। এতে ভুল হওয়ার কথা নয়। কী করে তা হল, সেটাই দেখা হচ্ছে।’’
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
ওই পুলিশকর্তা জানান, চোপড়ার দাসপাড়া, লক্ষ্মীপুর এলাকাগুলি একেবারে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা। কোনও ভাবে হেলিকপ্টার ভুল করে বাংলাদেশের আকাশে ঢুকে পড়লে আন্তর্জাতিকস্তরে নানা সমস্যা হতে পারত। সাময়িকভাবে হলেও প্রোটোকল ভাঙার বিষয় সামনে আসত। তৃণমূলের অনেকে বলছেন, ভাগ্য ভাল চালক পথ ভুল করলেও বিহারের দিকে ছিলেন।